কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
নেপালে ভোতে কোশী নদীতে আচমকা বিধ্বংসী হড়পা বানে (Flash Flood) নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। সকাল ৯টা নাগাদ প্রবল জলস্রোতে ভেসে গিয়েছে বাড়ি-ঘর, গাড়ি এবং সদ্য নির্মিত সেতু। সাড় সাড় হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কার্যত অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কায় গোটা দেশ। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সাড়ে তিনশোরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ মহাপ্রলয় নেপালে, তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান
কীভাবে ফাটল ‘জলবোমা’?
নেপাল সংসদের দাঁড়িয়ে দেশের বিদেশমন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসন বিপর্যয়ের পেছনে তুষারধস ও ভূমিকম্পের জোড়া ফলার কথা নিশ্চিত করেছেন:
-
কৃত্রিম হ্রদ সৃষ্টি: তুষারধস ও ধসের পাথরে নদীপ্রবাহ আটকে গিয়ে ভোতে কোশীতে এক বিশালাকার কৃত্রিম হ্রদ বা ‘জলবোমা’ তৈরি হয়েছিল।
-
ভূমিকম্পের আঘাত: বুধবার সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত-নেপাল সীমান্তে ৪.৪ মাত্রার মৃদু ভূমিকম্প হতেই মাটি কেঁপে ওঠে এবং ওই কৃত্রিম হ্রদের বাঁধ ভেঙে জল হু হু করে নিচে নামতে শুরু করে।
আরও পড়ুনঃ ‘সহায়তায় তৈরি ভারত’; নেপালের PMকে বার্তা মোদীর
ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল ও উদ্ধারকাজ
-
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা: রসুয়া জেলার স্যাব্রুবেশি (Syabrubesi) এবং টিমুরে (Timure) এলাকায় নদীর দু’পাড় কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে।
-
জরুরি পরিস্থিতি: জল, মাটি ও ধ্বংসস্তূপের তোড়ে মানুষ আতঙ্কে নিরাপদ স্থানে ছুটতে থাকেন। ধ্বংসস্তূপ সরাতে এবং আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে বড় আকারে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।
প্রাথমিক অনুমান, কাদা ও নদীর তোড়ে ভেসে যাওয়া বহু মানুষের খোঁজে তল্লাশি চলায় মৃতের সংখ্যা আরও মারাত্মকভাবে বাড়তে পারে।


