বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের পার্বত্য অঞ্চলে হঠাৎ দেখা দেওয়া বিধ্বংসী হড়পা বানে (Flash Flood) ভেসে গেছে একাধিক গ্রাম ও নির্মীয়মাণ পরিকাঠামো। এই বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৯ জন।

নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচুতে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
আরও পড়ুনঃ আগামী ৩ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে প্রবল বজ্রপাতের সাথে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
ক্ষয়ক্ষতি ও ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল
-
প্রধান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা: নেপালের পার্বত্য জেলা রাসুয়ার স্যাপ্রু বেসি (Syabrubesi) এবং টিমুরে (Timure) এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
-
বিপদসীমায় নদী: তিব্বত থেকে উৎপন্ন ‘ভোতে কোশী’ (Bhote Koshi) নদীর জলস্তরের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গিয়েছে।
-
ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা: প্রশাসনিক প্রধান নরেন্দ্র পারিয়ার জানিয়েছেন, গ্রাম ও নানা পরিকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প প্লাবিত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
উদ্ধারকার্য ও সরকারি পদক্ষেপ
-
সেনা ও পুলিশ মোতায়েন: নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।
-
হেলিকপ্টার উদ্ধার অভিযান: দুর্গমাঞ্চলে উদ্ধারকাজ দ্রুত করতে সেনার হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনার পুত্রের পোস্ট ঘিরে শোরগোল; বাংলাদেশে প্রকাশ্যে আল কায়েদা নেতা, বাড়ছে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ
ভৌগোলিক গুরুত্ব ও পূর্ব ইতিহাস
ভোতে কোশী নদীটি তিব্বত থেকে প্রবাহিত হয়ে নেপালের ত্রিশূলী নদীর সঙ্গে মেসে এবং পরবর্তীতে ভারতে প্রবেশ করে গঙ্গার অন্যতম প্রধান উপনদী ‘গণ্ডক’-এ পরিণত হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরও তিব্বতের একটি হিমবাহজাত হ্রদ (Glacial Lake Outburst) ফেটে ভোতে কোশী নদীতে একই রকম বন্যা দেখা দিয়েছিল। সেই বিপর্যয়ে ৯ জনের মৃত্যু, ২৪ জন নিখোঁজ এবং নেপাল-চীন সংযোগকারী ঐতিহাসিক ‘ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’ ধ্বংস হয়ে বেশ কয়েক মাস দুই দেশের সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ ছিল।



