বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা:
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI) ও এবিভিপি-র (ABVP) মধ্যে তীব্র বচসা এবং সংঘাতের ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে বহিরাগত ঢোকানো এবং অশান্তি তৈরি করার পাল্টা অভিযোগ তুলেছে।
আরও পড়ুনঃ ১ দিনে ৩৫ শিবিরে ১৬০০ ইউনিট সংগ্রহ! রক্ত দুর্নীতিকাণ্ডে বেলেঘাটার ব্লাড ব্যাংক
ঘটনার সূত্রপাত ও সংঘাতের বিবরণ
-
এসএফআই-এর কর্মসূচী ও গেট বন্ধ: রাজ্য সম্মেলন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে এসএফআই-এর সমাবেশ ছিল। সমাবেশ চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেট বন্ধ করে দেওয়া হলে জটিলতা বাড়ে। এসএফআই-এর দাবি, গেট বন্ধের কারণ জানতে ও ডেপুটেশন দিতে তারা কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে এবিভিপি সদস্যরা তাঁদের দিকে তেড়ে আসেন ও হামলা চালান।
-
এবিভিপি-র অভিযোগ: এবিভিপি নেতা স্বাধীন হালদারের দাবি, এসএফআই-এর সমাবেশ থেকে বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে ঢুকে তাঁদের ওপর হামলা চালায় এবং দেশবিরোধী স্লোগান দেয়। এই সংঘর্ষে তাঁদের ৩ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়।

বহিরাগত প্রবেশের জল্পনা ও পাল্টা দাবি
-
এসএফআই নেতা অমিত ঘোষের বক্তব্য: এবিভিপি ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করতে বাইরে থেকে লোকজন এনেছে। এমনকী প্রাক্তন তৃণমূল কর্মীদেরও এবিভিপির হয়ে ক্যাম্পাসে তাণ্ডব চালাতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ তোলে এসএফআই।
-
এবিভিপির পাল্টা দাবি: এসএফআই সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে বাইরে থেকে লোক এনে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুনঃ “নীল চাষ কি শুধু মুসলিমরা করতেন?” তিতুমীর কি হিন্দুবিরোধী! বারাসতে তিতুমীর সভাকক্ষের নাম বদলে ‘শ্যামাপ্রসাদ ভবন’
প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও ডেপুটেশন
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। দুই পক্ষকে ক্যাম্পাস ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পর প্রথমে এবিভিপি এবং পরে এসএফআই সদস্যরা এলাকা ছাড়েন।
-
এসএফআই-এর ডেপুটেশন: ঘটনার পর এসএফআই কর্তৃপক্ষের কাছে ডেপুটেশন জমা দিয়ে জানায়, গেট বন্ধ রাখা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন ও বহিরাগত প্রবেশে কঠোর নজরদারির দাবি জানানো হয়।
উপাচার্য উপস্থিত না থাকায় মঙ্গলবার চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। বুধবার উপাচার্যের উপস্থিতিতে বৈঠকের পর এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


