বিশেষ প্রতিনিধি:
কলকাতা পুরসভার সম্ভাব্য পুনর্গঠনে ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়িয়ে ২০৯ করার জল্পনার মাঝেই আসন্ন পুরভোটকে কেন্দ্র করে বামফ্রন্টের অন্দরে আসন সমঝোতা নিয়ে জটিলতার আবহ তৈরি হয়েছে। চিরাচরিত শরিকি ভাগাভাগির পুরনো ছক ভেঙে এবার ‘সাংগঠনিক শক্তি ও জয়ের সম্ভাবনা’কে ভিত্তি করে প্রার্থী দেওয়ার নতুন ফর্মুলা ভাবছে সিপিএম (CPI-M)। তবে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আসন বণ্টন সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন আরএসপি (RSP) সাধারণ সম্পাদক মনোজ ভট্টাচার্য।
আরও পড়ুনঃ আর্থিক প্রতারণা ও জমি দখল; গ্রেপ্তার তারকেশ্বর পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম কুন্ডু
সিপিএমের নয়া ‘শক্তি ভিত্তিক’ ফর্মুলা
-
ভোটের অঙ্ক ও বাস্তব শক্তি: এবার স্রেফ শরিকি প্রথা মেনে নয়, বরং নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে দলের সাংগঠনিক উপস্থিতি, বিগত নির্বাচনের ফলাফল, বুথভিত্তিক সমর্থন এবং স্থানীয় প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা বিচার করে আসন বণ্টনের প্রস্তাব আনতে চলেছে সিপিএম।
-
সিপিএমের আসন বৃদ্ধির সম্ভাবনা: কলকাতার সিংহভাগ ওয়ার্ডে শরিকদের তুলনায় সিপিএমের সক্রিয়তা বেশি থাকায় এই ফর্মুলা কার্যকর হলে সিপিএমের লড়া আসান সংখ্যা বিগত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
-
বিগত পুরভোটের হিসাব (১৪১টি ওয়ার্ড): গত পুরভোটে বামফ্রন্টের ১৪১টি আসনের মধ্যে সিপিএম ৯৬টি, সিপিআই ১৪টি, ফরওয়ার্ড ব্লক ১১টি, এবং আরএসপি ১০টি ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। এছাড়া এমএফবি (২), সমাজবাদী পার্টি (২), ডিএসপি (২), আরজেডি (২), বিপ্লবী বাংলা কংগ্রেস (১) ও আরসিপিআই (১) আসনে লড়েছিল।
আরও পড়ুনঃ হুলস্থুল পোস্তায়! মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে ১ কোটিরও বেশি ডাকাতি
শরিকি অসন্তোষ ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
-
শরিকদের আপত্তি: সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক কিংবা আরএসপির মতো শরিক দলগুলির যুক্তি—কেবল সাম্প্রতিক কোনো ভোটের ফল দিয়ে সাংগঠনিক শক্তি বিচার করা যুক্তিযুক্ত নয়। দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ভোটব্যাঙ্ক ও স্থানীয় ঐতিহ্যকে মর্যাদা দেওয়ার পক্ষে তারা।
-
জোটের বড় পরীক্ষা: সম্ভাব্য ২০৯টি ওয়ার্ডের নতুন সমীকরণে বামফ্রন্ট কীভাবে নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সামাল দিয়ে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করে, সেটাই এখন দেখার।


