Monday, 5 October, 2026
5 October
HomeকলকাতাKolkata: ঘোড়ায় টানা যান থেকে পরিবেশবান্ধব ই-বাস; কলকাতার ২০০ বছরের গণপরিবহণের ইতিহাস

Kolkata: ঘোড়ায় টানা যান থেকে পরিবেশবান্ধব ই-বাস; কলকাতার ২০০ বছরের গণপরিবহণের ইতিহাস

বর্তমান ‘বাস যাত্রা ৪.০’ এই দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করেছে এক নতুন মাত্রা

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ ফিচার/পরিবহণ প্রতিনিধি:

আজকের ঝাঁ-চকচকে ভলভো (Volvo) কিংবা নীরব পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস—কলকাতার ব্যস্ত রাজপথে যাদের নিত্যআনাগোনা, তাদের ইতিহাস প্রায় দুই শতক প্রাচীন। ১৮৩০ সালে ব্যারাকপুর থেকে ধর্মতলা রুটে প্রথম ৩-ঘোড়ায় টানা বাসের চাকা গড়িয়েছিল এই তিলোত্তমায়। মাঝখানের দীর্ঘ ১৯০ বছরে বাসের রূপ বদলেছে, শহরের চালচিত্র বদলেছে, কিন্তু গণপরিবহণের লাইফলাইন হিসেবে বাসের গুরুত্ব অপরিবর্তিতই রয়ে গিয়েছে।

সম্প্রতি উন্মোচিত ‘বাস যাত্রা ৪.০’ (Bus Jatra 4.0)-এর বিশেষ প্রতিবেদনে কলকাতার বাসের এই দীর্ঘ ও বর্ণময় বিবর্তনের পাশাপাশি তুলে ধরা হয়েছে পরিবহণ ক্ষেত্রে নারীদের অবদানের এক নজিরবিহীন অধ্যায়।

আরও পড়ুনঃ  উগ্র ডানপন্থীদের বড় চমক; ব্রাজিলের ভোটে ‘ডানদিকে’ বইছে হাওয়া, বামপন্থীদের ধাক্কা

পর্দা-দেওয়া মিনিবাস থেকে ডাবল ডেকার: ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক

কলকাতার বাসের বিবর্তন কেবল প্রযুক্তির নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনেরও এক ঐতিহাসিক দলিল:

  • ১৯০৫-এর ‘পর্দা-দেওয়া’ মিনিবাস: আজ থেকে একশতকেরও বেশি সময় আগে কলকাতার রাস্তায় নেমেছিল কাপড়ের পর্দা ঝুলানো মিনিবাস, যা তৎকালীন সময়ে রোদ-বৃষ্টি থেকে সুরক্ষা ও নারী যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

  • ডাবল ডেকার ও ‘নামাঙ্কিত’ বাস: ১৯২২ সালে ক্যালকাটা ট্রামওয়েজ কোম্পানি (CTC) বাস নামানোর পর ১৯২৬ সালে আসে প্রথম লাল ডাবল ডেকার বাস। ১৯২৮ সালে ‘বেঙ্গল বাস সিন্ডিকেট’ তৈরির পর বাসের গায়ে ‘উর্বশী’, ‘কিন্নরী’, ‘পথের বন্ধু’-র মতো রোমান্টিক ও আবেগী নাম লেখা শুরু হয়।

  • ‘মুড়ির টিন’ ও শহরতলি সংযোগ: কাঠের বডি আর টিনের ছাউনি দেওয়া বাস হাওড়া, শিবপুর, আন্দুল, বালি, আমতা, বেহালা ও গড়িয়াকে যুক্ত করেছিল। পরবর্তীতে তৈরি হয় ৩, ৭, ৩৬বি, ৫১ কিংবা ৬০, ৬১-র মতো ঐতিহাসিক বাস রুট।

বিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায় ও আধুনিকায়ন

এক নজরে কলকাতার গণপরিবহণের রূপান্তরের সময়রেখা:

সময়কাল / সময়রেখা পরিবহণ ব্যবস্থার ধরণ ও বৈশিষ্ট্য
১৮৩০ – ১৯১৮ ৩-ঘোড়ায় টানা বাস দিয়ে শুরু; পরবর্তীতে ১৯১৮ সালে শিয়ালদহ-বেলেঘাটা রুটে মোটর বাস চালু।
১৯৪০ – ১৯৫০ রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (RTA) গঠন এবং স্বাধীনতার পর CSTC ও SBSTC-র মাধ্যমে সরকারি রুট নেটওয়ার্ক বিস্তার।
১৯৭৫ – ১৯৯০ ক্রিম রঙের ‘CSTC Deluxe Service’ (যেখানে ‘FULL’ বোর্ড ঝুলত) এবং সাটলেক ও দ্বিতীয় হুগলি সেতু কেন্দ্রিক মিনিবাসের বিকাশ।
২০০০ – বর্তমান হোয়াইটলাইনার এসি, ইলেকট্রিক ই-বাস এবং অত্যাধুনিক ‘Volvo 9600’ বিলাসবহুল কোচ।

আরও পড়ুনঃ  ‘সুন্দরী ও শিক্ষিত মহিলা আনো, পুরনোদের ছাঁটাই করো’; কাটোয়ায় বিজেপি নগর সভাপতির মন্তব্যে অগ্নিগর্ভ দলীয় কার্যালয়

‘বাস যাত্রা ৪.০’ এবং স্টিয়ারিং হাতে নারীর ক্ষমতায়ন

কেবল যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানো নয়, বাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আবেগ, প্রথম চাকরির স্মৃতি ও ভালোবাসার টান। বর্তমান ‘বাস যাত্রা ৪.০’ এই দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করেছে এক নতুন মাত্রা—বাস পরিবহণে নারীর ভূমিকা।

আজ কলকাতার বাস পরিবহণে নারীরা কেবল যাত্রী নন; চালক, কন্ডাক্টর, ডিপো কর্মী থেকে শুরু করে বাস মালিক হিসেবেও নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করছেন। ১৮৩০-এর ঘোড়ায় টানা বাস থেকে আজকের সিএনজি বা পরিবেশবান্ধব ই-বাস—কলকাতার চাকা যত সামনে গড়িয়েছে, তিলোত্তমার প্রগতি ও সমতার গল্পও তত দূর এগিয়ে গিয়েছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন