বিশেষ শালবনী ও মেদিনীপুর প্রতিনিধি:
বেআইনি বালি পাচার ও জমি কেলেঙ্কারি মামলায় নতুন তথ্য সামনে আসতেই জেরার জালে জড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। পুলিশি হেফাজতে জেরার পর দেখা গেছে, সুমিত রায় নিজের নাম ছাড়াও কালীঘাট ও সংলগ্ন এলাকার একাধিক বাসিন্দার নথি ব্যবহার করে বিভিন্ন ভুয়া ও নিষ্ক্রিয় সিম কার্ড তুলতেন এবং ব্যবহার করতেন।
শালবনী থানার পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত রবিবার ধৃত সুমিত রায়কে ফের ২ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ সংসদ থেকে রাস্তা লড়াইয়ের আশ্বাস রাহুলের
নকল সিম ও গোপন লেনদেনের চাঞ্চল্যকর রহস্য
৯ দিনের প্রাথমিক পুলিশি হেফাজত শেষে সুমিত রায়কে আদালতে পেশ করা হলে সরকারি আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব একাধিক নতুন বিস্ফোরক নথি তুলে ধরেন:
-
অন্যদের নামে ব্যবহৃত সিম: জেরায় প্রকাশ পায়, ধৃতের কাছে থাকা ফোন ও সিমে একটিমাত্র সুমিতের নিজের নামে ছিল। বাকি সমস্ত সিম নেওয়া হয়েছিল কালীঘাট ও আশপাশের বাসিন্দাদের নথিপত্র ব্যবহার করে।
-
কালীঘাট সংযোগ: উল্লেখযোগ্যভাবে, যে সমস্ত ব্যক্তির নামে সিম নেওয়া হয়েছিল, তাঁদের প্রায় সকলেই কালীঘাট ও সন্নিহিত এলাকার বাসিন্দা, যেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসস্থান ও কার্যালয় রয়েছে।
-
ইউপিআই (UPI) লেনদেনের সন্দেহ: তদন্তকারীদের অনুমান, বেআইনি বালি পাচারের লভ্যাংশ আড়াল করতে এবং মোটা অঙ্কের টাকা অনলাইনে সরানোর জন্য ওই বেনামি সিম কার্ডগুলির মাধ্যমে ডিজিটাল ওয়ালেট ও ইউপিআই (UPI) অ্যাকাউন্ট সচল রাখা হতো।
আরও পড়ুনঃ এবার ছড়ি ঘোরাবেন বিজয়ই! ‘INDIA’-য় যোগ দিল TVK
মুখোমুখি জেরা ও আদালতের নির্দেশ
শালবনীর জমি কেলেঙ্কারিতে প্রথমে গ্রেপ্তার করার পর তাঁকে নতুন করে ‘শো-অ্যাভেলেবল/শোন অ্যারেস্ট’ দেখিয়ে বালি পাচার মামলায় যুক্ত করেছে পুলিশ:
| বিষয় / ক্ষেত্র | আদালতের তথ্য ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ |
| আদালতের নির্দেশ | জামিনের আবেদন বাতিল করে ধৃত সুমিত রায়কে নতুন করে ২ দিনের পুলিশি হেফাজত। |
| পুলিশের মূল দাবি | সিম কার্ডের আসল মালিকদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা ও অনুমতিপত্রের সত্যতা যাচাই করা। |
| পরবর্তী তদন্ত সূচি | যাঁদের নামে সিমগুলি তোলা হয়েছিল, শীঘ্রই তাঁদের তলব করে বয়ান রেকর্ড করবে শালবনী থানা। |
সিম কার্ডধারীদের অজান্তে এই কাজ করা হয়েছিল, নাকি এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ আর্থিক দুর্নীতির চক্র জড়িত—তা খতিয়ে দেখতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে জেলা পুলিশ।


