Monday, 5 October, 2026
5 October
HomeকলকাতাMamata Banerjee: ব্যক্তিগত রিপোর্ট কীভাবে প্রকাশ্যে আনা হল? নোটিস পাঠালেন মমতা

Mamata Banerjee: ব্যক্তিগত রিপোর্ট কীভাবে প্রকাশ্যে আনা হল? নোটিস পাঠালেন মমতা

মমতার পায়ের আঘাত সংক্রান্ত মেডিক্যাল রিপোর্ট তুলে ধরে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই এই আইনি নোটিস।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ কলকাতা ও আইনি প্রতিনিধি:

উপনির্বাচনের গরম বাতাসের মাঝেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২০২১ সালের নন্দীগ্রামের বহুচর্চিত জখম পা ও তাঁর ব্যক্তিগত মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ নিয়ে তুঙ্গে উঠল আইনি ও রাজনৈতিক যুদ্ধ। চিকিৎসা সংক্রান্ত সংবেদনশীল ব্যক্তিগত রিপোর্ট কীভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে আনা হলো—এই প্রশ্ন তুলে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনকে কড়া আইনি নোটিস পাঠালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠক করে মমতার তৎকালীন জখম পায়ের মেডিক্যাল রিপোর্ট সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে সিআইডি (CID) তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। এর পরপরই এই নজিরবিহীন আইনি পদক্ষেপ করা হলো।

আরও পড়ুনঃ ধাপা বাইপাস এরিয়া কমিটির ১০৮ ওয়ার্ডের ৫১ বছরের চৌবাগা পার্টি অফিসে গভীর রাতে সিপিআই(এম) পার্টি অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ; বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

মমতার আইনি নোটিসের মূল যুক্তি ও সাংবিধানিক পয়েন্ট

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবীর তরফে পাঠানো ওই আইনি চিঠিতে চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা ও সংবেদনশীলতার একাধিক ধারা তুলে ধরা হয়েছে:

  • অনুচ্ছেদ ২১ ও মৌলিক অধিকার: চিঠিতে ভারতের সংবিধানের Article 21-এর উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা (Privacy) একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকারের অঙ্গ। সুপ্রিম কোর্টের একাধিক ঐতিহাসিক রায় তুলে ধরে দাবি করা হয়, চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি যেকোনো নাগরিকের অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য।

  • ‘সংগ্রহ’ ও ‘প্রকাশ’ এক নয়: চিঠিতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে—তদন্তের প্রয়োজনে কোনো সরকারি সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ আইন মেনে কোনো মেডিক্যাল রিপোর্ট হাতে পেতে পারে, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে সেই নথি সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ করার বা ছড়িয়ে দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

  • মেডিকেল কাউন্সিলের নীতি: Indian Medical Council Regulations, 2002-এর নীতি উল্লেখ করে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সুনির্দিষ্ট আইনি অনুমতি ছাড়া রোগীর তথ্য গোপন রাখা হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব।

  • প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হলেও গোপনীয়তা বহাল: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়া সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত চিকিৎসার তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার পূর্ণ আইনি অধিকার রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  গদা হাতে তেড়ে এসে ‘লাল’ ঝাণ্ডার গুঁতো! লালবাগে বজরং দলকে ‘পাল্টা পথ’ দেখাল সিপিএম; লালবাগে ‘লাল’ প্রতিরোধ

শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ও ‘মেডিকেল রিপোর্ট’ বিতর্ক

সাংবাদিক বৈঠকে বাঙুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও ডিপার্টমেন্ট অব রেডিও ডায়াগনস্টিকের ২০২১ সালের ১১ মার্চের এক্স-রে রিপোর্ট হাতে তুলে ধরে কড়া আক্রমণ শানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী:

নেতা / ব্যক্তিত্ব রাজনৈতিক তোপ ও প্রতিক্রিয়া
শুভেন্দু অধিকারী (মুখ্যমন্ত্রী) “২০২১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী পুরো নন্দীগ্রামকে অপমান করে দাবি করেছিলেন ওঁর পা নাকি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অথচ ওই দিনের অফিসিয়াল রিপোর্টে লেখা রয়েছে—‘No Evidence of Fracture’। নির্বাচনী বিধি উঠে গেলে এই মিথ্যা প্রচারের জন্য নতুন করে সিআইডি তদন্ত হবে। সত্য সামনে আসায় উনি এখন মাথা গরম করে নোটিস পাঠাচ্ছেন, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ভবন এর আইনি জবাব দেবে।”
শান্তনু সেন (গণতান্ত্রিক তৃণমূল) “আইনি নোটিস পাঠানো ওঁর অধিকার। তবে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সিআইডি তদন্তের কথা বলেছেন, আমরা সেই তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছি।” (উল্লেখ্য, শান্তনুবাবুও পূর্বে মমতার পায়ের এক্স-রে রিপোর্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন)।

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক মুখেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জখম পায়ের মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ এবং তার জবাবে সংবিধানের ‘রাইট টু প্রাইভেসি’ ও মেডিকেল এথিকস তুলে পাঠানো আইনি নোটিস—দুই মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতির পারদ এখন ফুটন্ত পর্যায়ে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন