কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
আদালতকক্ষের ভেতরেই হিজাব পরিহিত বিচারককে দেখে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তোলার অভিযোগে চরম বিতর্ক তৈরি হলো শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে। বুধবার ৪ নম্বর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এজলাসে ২০১৮ সালের একটি সংবেদনশীল মামলার শুনানির সময় ঘটনাটি ঘটে। বিচার ব্যবস্থার পবিত্রতা ও নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগে শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশন এবং আইনজীবীদের একাধিক সংগঠন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
পরবর্তীতে অভিযুক্তদের আইনজীবী পুরো বিষয়টি অনভিপ্রেত বলে আদালতকক্ষেই বিচারকের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে নেন।
আরও পড়ুনঃ ক্লাসরুমের দরজায় ফণা তুলে ৪.৫ ফুটের বিষধর গোখরো! ধূপগুড়ির প্রাথমিক স্কুলে চরম আতঙ্ক
ঘটনার সূত্রপাত: ২০১৮ সালের বিতর্কিত মামলা
ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে ২০১৮ সালের একটি ভিনধর্মী বিয়ে সংক্রান্ত পুরনো মামলা:
-
মামলার পটভূমি: ২০১৮ সালে তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’-এর প্রতিবাদ জানিয়ে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্ক থেকে মিছিল করে মহকুমা শাসকের অফিসে স্মারকলিপি দিতে যান।
-
পুলিশি পদক্ষেপ: তৎকালীন ঘটনায় ত্রিদীপসহ মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ। বুধবার সেই মামলার শুনানির জন্য ২৪ জন অভিযুক্তকেই ৪ নম্বর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল।
কোর্টরুমে যা ঘটেছিল
বুধবার এজলাসে নাম ধরে অভিযুক্তদের উপস্থিতি ডাকার (Calling) প্রক্রিয়া শুরু হতেই তৈরি হয় চরম বিতর্কিত পরিস্থিতি:
[ ২০১৮ সালের মামলার শুনানিতে অভিযুক্তদের এজলাসে হাজিরা ]
│
▼
[ হিজাব পরিহিত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ]
│
▼
[ নাম ডাকার সময় অভিযুক্তের ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান ]
│
▼
[ আইনজীবী কর্তৃক তৎক্ষণাৎ নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা ]
আরও পড়ুনঃ পোলাওয়ের সঙ্গে খাসির মাংসের বদলে বিড়ালের মাংস পরিবেশনের অভিযোগ! গঙ্গারামপুরে বন্ধ খাবারের দোকান, সিল মাংসের দোকান
আইনজীবী ও বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিক্রিয়া
আইনজীবী মহল এই ঘটনাকে বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতার ওপর বড়সড় আঘাত বলে মন্তব্য করেছে:
| ব্যক্তিত্ব / সংগঠন | বক্তব্য ও অবস্থান |
| উদয়শঙ্কর মালাকার (সভাপতি, শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশন) | “এটি অত্যন্ত অনভিপ্রেত ঘটনা। আদালতকক্ষে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। আদালত চাইলে এই বিষয়ে ‘সুয়োমোটো’ (Suo Moto) মামলাও দায়ের করতে পারত।” |
| দিবাকর রায় (দার্জিলিং জেলা সম্পাদক, AILA) | “আদালতকক্ষ ধর্ম ও রাজনীতির ঊর্ধ্বে নিরপেক্ষ বিচারে স্থান। সেখানে কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় স্লোগান দেওয়া নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থার পরিপন্থী।” |
| ত্রিদীপ (অভিযুক্তদের আইনজীবী) | “নাম ডাকার সময় অভিযুক্ত না বুঝে অভিবাদনমূলকভাবে শব্দটি বলে ফেলেছে। বিচারককে লক্ষ্য করে এটি বলা হয়নি। ভুল বুঝতে পেরে আমরা আদালতকক্ষেই ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি।” |
আইনজীবীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে সামাল দেওয়া গেলেও, আদালত প্রাঙ্গণে ধর্মীয় স্লোগান তোলার এই ঘটনায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় আইনি মহলে।


