বিশেষ আইনি ও জাতীয় প্রতিনিধি:
এসআইআর (SIR) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের স্বেচ্ছাচারিতা মামলায় বড়সড় আইনি ধাক্কা খেল নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্র সরকার। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—কমিশনের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া না হয়ে থাকলে গোটা এসআইআর প্রক্রিয়ার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করা হতে পারে। একই সঙ্গে বিতর্কিত ‘ফর্ম ৬’-এ বেআইনি পরিবর্তনের সত্যতা মিললে, পশ্চিমবঙ্গসহ একাধিক রাজ্যের পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার তিন বিচারপতির বেঞ্চ এ বিষয়ে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে কড়া নোটিস জারি করে এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব তলব করেছে।
‘ফর্ম ৬’ বদল ও বেআইনি শর্ত চাপানোর মারাত্মক অভিযোগ
ভোটার তালিকা থেকে ভুয়া ভোটার বাদ দেওয়ার নামে চালানো ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় ‘ফর্ম ৬’-এর মাধ্যমে নতুন নাম তোলার অনলাইন পদ্ধতিতে হঠাৎ একটি ‘আপত্তিকর’ অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত করা হয়েছিল:
-
আইন লঙ্ঘন: ‘ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা, ১৯৬০’-এর অধীনে নির্ধারিত বিধিবদ্ধ ‘ফর্ম ৬’-এ আইনি অনুমোদন ছাড়া কীভাবে পরিবর্তন আনা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত।
-
লক্ষ লক্ষ ভোটার বাদ: সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি বা সংবিধিবদ্ধ নির্দেশ ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে জ্ঞানেশ কুমার এই নতুন শর্ত চাপান বলে অভিযোগ, যার ফলে কোটি কোটি বৈধ নাগরিকের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে।
-
অন্য দুই কমিশনারের আপত্তি উচ্ছেদ: ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, দুই সহকারী নির্বাচন কমিশনারের লিখিত আপত্তিকে একছত্রভাবে উড়িয়ে দিয়ে জ্ঞানেশ কুমার একা এই নিয়ম বলবৎ করেন।
আরও পড়ুনঃ উগ্র ডানপন্থীদের বড় চমক; ব্রাজিলের ভোটে ‘ডানদিকে’ বইছে হাওয়া, বামপন্থীদের ধাক্কা
তিন বিচারপতির বেঞ্চের মূল বক্তব্য ও আইনি অবস্থান
সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সঙ্গে সঙ্গে সিইসি-কে বরখাস্ত করার আর্জি খারিজ করলেও, সুপ্রিম কোর্ট তার আইনি পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট করে দিয়েছে:
| ক্ষেত্র / বিষয় | শীর্ষ আদালতের বক্তব্য ও নির্দেশ |
| সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন | “সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ১০০ শতাংশ ঠিক, আংশিক ঠিক বা ভুল—সবই হতে পারে। কেবল খবরের ওপর ভর করে কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া যায় না।” |
| কমিশনের জবাব ও নথি তলব | “আমরা অবশ্যই কমিশন ও সরকারের জবাব চাইব। যদি দেখা যায় আইন না মেনে বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংবিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া এড়িয়ে কাজ করা হয়েছে, তবে সেই সিদ্ধান্ত সরাসরি বাতিল করে দেওয়া হবে।” |
| ভবিষ্যৎ আশঙ্কার মেঘ | আইনি বিশেষজ্ঞদের দাবি—যদি প্রমাণিত হয় যে সর্বসম্মতি ছাড়া ও অসৎ উদ্দেশ্যে ‘ফর্ম ৬’ বদল করে ভোটার তালিকা কাটছাঁট করা হয়েছে, তবে বাংলাসহ একাধিক রাজ্যের সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকা বাতিল হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। |
কেন্দ্র ও কমিশনকে এক সপ্তাহের মধ্যে লিখিত জবাব ও সমস্ত মূল নথি সুপ্রিম কোর্টে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।


