Saturday, 20 June, 2026
20 June
Homeজ্যোতিষ/আধ্যাত্মিকতাGoddess Vinayaki: রহস্যময়ী 'বিনায়কী'! হিন্দু পুরাণের হারিয়ে যাওয়া নারী গণেশ

Goddess Vinayaki: রহস্যময়ী ‘বিনায়কী’! হিন্দু পুরাণের হারিয়ে যাওয়া নারী গণেশ

পুরাণ মানেই যে শুধু ধূপ-ধুনো আর আচারের গণ্ডি নয়, বরং এর পরতে পরতে লুকিয়ে আছে এক একটা ডার্ক ফ্যান্টাসি বা রুদ্ধশ্বাস এপিক থ্রিলার— দেবী বিনায়কীর গল্প তারই প্রমাণ।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

চন্দন দাস, কলকাতাঃ

আমরা সবাই বিঘ্নহর্তা গণেশের কথা জানি, গণেশ চতুর্থীর নামও শুনেছি। কিন্তু কখনো মনে প্রশ্ন জেগেছে কি— দিনটার নাম ‘বিনায়ক’ না হয়ে ‘বিনায়কী’ কেন? কে এই বিনায়কী?

গল্পটা শুরু হচ্ছে এক ভয়ংকর যুদ্ধ দিয়ে :

শিবের সাথে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম চলছে মহাশক্তিশালী অসুর অন্ধকের। অন্ধকাসুরের এক অদ্ভুত মায়াবী ক্ষমতা ছিল। তার শরীর থেকে এক ফোঁটা রক্ত মাটিতে পড়লেই, সেখান থেকে জন্ম নিচ্ছে হুবহু তার মতো আরও এক অন্ধকাসুর। শিবের ত্রিশূলের আঘাতে সে বারবার রক্তাক্ত হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু মাটিতে রক্ত পড়তেই রণক্ষেত্রে অসুরের সংখ্যা যেন জ্যামিতিক হারে বেড়ে চলেছে। চারদিকে এক বীভৎস, রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি!

ঠিক সেই মুহূর্তে ত্রাতা হয়ে এগিয়ে এলেন দেবী পার্বতী। তিনি বুঝতে পারলেন, এই মায়াবী অসুরকে বধ করতে গেলে মহাজাগতিক নারীশক্তির প্রয়োজন। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে রণক্ষেত্রে উপস্থিত হলেন সমস্ত দেবশক্তির নারী রূপ— ইন্দ্রের শক্তি ইন্দ্রাণী, বিষ্ণুর শক্তি বৈষ্ণবী, ব্রহ্মার শক্তি ব্রহ্মাণী।

কিন্তু এই সব পরিচিত দেবীদের ঠিক পাশেই আবির্ভূত হলেন এক অদ্ভুত দর্শনা দেবী। যাঁর শরীর নারীসুলভ, কিন্তু মস্তক এক হাতির!

আরও পড়ুনঃ তারকেশ্বরের জন্য স্পেশ্যাল ট্রেন ঘোষণা পূর্ব রেলের

হ্যাঁ, ইনিই হলেন গণেশের নারী রূপ— দেবীবিনায়কী’ বা ‘গণেশিনী

রণক্ষেত্রে নেমেই এই দেবী তাঁর বিশাল শুঁড় দিয়ে অদ্ভুত এক কাণ্ড ঘটালেন। অন্ধকাসুরের শরীর থেকে ঝরে পড়া রক্ত তিনি মাটিতে পড়ার আগেই পান করতে শুরু করলেন। মাটিতে আর এক ফোঁটাও রক্ত পড়লো না, নতুন কোনো অসুরের জন্মও হলো না। অবশেষে শিবের ত্রিশূলে চিরতরে বিনাশ হলো অন্ধকাসুরের।

আরও পড়ুনঃ সাতসকালে শহরজুড়ে ম্যারাথন দৌড়; যোগাসনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

প্রাচীন মৎস্য পুরাণ (৫৫০ খ্রিষ্টাব্দ) থেকে শুরু করে প্রাচীন তান্ত্রিক সাধনায় এই দেবী বিনায়কীর উল্লেখ পাওয়া যায়। ৬৪ যোগিনীর অন্যতম এই হাতির মাথা বিশিষ্ট দেবী প্রাচীন ভারতে অত্যন্ত পূজনীয় ছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, কালক্রমে মূল স্রোতের আড়ালে এই নারীশক্তির কথা অনেকটাই ঢাকা পড়ে যায়।

তবে ইতিহাস তাঁকে পুরোপুরি ভোলেনি। অমাবস্যার ঠিক পরের চতুর্থী তিথিটি (শুক্লা চতুর্থী) গণেশকে উৎসর্গ করা হলেও, দিনটির নামকরণ করা হয়েছে তাঁর এই রহস্যময়ী নারী শক্তির নামেই— ‘বিনায়কী চতুর্থী’।

পুরাণ মানেই যে শুধু ধূপ-ধুনো আর আচারের গণ্ডি নয়, বরং এর পরতে পরতে লুকিয়ে আছে এক একটা ডার্ক ফ্যান্টাসি বা রুদ্ধশ্বাস এপিক থ্রিলার— দেবী বিনায়কীর গল্প তারই প্রমাণ। কালের নিয়মে এই বিধ্বংসী নারীশক্তির কথা হয়তো আজ অনেকটাই বিস্মৃতির অন্তরালে, কিন্তু ক্যালেন্ডারের পাতায় শুক্লা চতুর্থীর এই দিনটা আজও তাঁর অস্তিত্বের এক নীরব সাক্ষী হয়ে রয়ে গেছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন