কলকাতা:
নিজের ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতি এবং বইয়ের রয়্যালটি না পাওয়ার বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার একটি সোশ্যাল মিডিয়া (ফেসবুক) লাইভে এসে তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকাকালীন তিনি কখনও সরকারি বেতন বা পেনশন গ্রহণ করেননি। জীবনের বহু বছর ধরে নিজের লেখা বইয়ের রয়্যালটি থেকেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবনযাত্রার খরচ চলত। কিন্তু এ বছর সেই রয়্যালটির টাকা তিনি পাননি এবং কেন্দ্রীয় শাসকদলের চাপে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে বলে মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ মাঝ-আকাশে তীব্র ঝাঁকুনি, ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেল এয়ার ইন্ডিয়ার উড়ান
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই বলে এসেছেন যে তিনি আঁকা ছবি বিক্রি এবং প্রকাশিত বইয়ের রয়্যালটি থেকেই আয় করেন। এ দিন ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি বলেন:
“আমি কোনো দিন এক পয়সা মাইনে নিইনি। আজ পর্যন্ত এক পয়সা পেনশনও নিইনি। আমার বইয়ের রয়্যালটি দিয়েই আমার সংসার ও ব্যক্তিগত খরচ চলে। কিন্তু সেই রয়্যালটিটাও এ বছর আমি পাইনি। নিশ্চয়ই বিজেপির ভয়ে পাবলিশাররা মুখ বন্ধ করে বসে আছে। এর পেছনে নিশ্চিত কোনো চক্রান্ত আছে। আমাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে সবকিছু ফ্রিজ করে দিয়েছে।”
আরএসএস (RSS)-এর রেজিস্ট্রেশন ও ফাণ্ডিং নিয়ে প্রশ্ন
ব্যক্তিগত আর্থিক আক্রমণের পাশাপাশি এ দিনের বার্তা থেকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)-এর আর্থিক স্বচ্ছতা ও আইনি বৈধতা নিয়েও সরব হন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
-
স্বচ্ছতার দাবি: মমতার প্রশ্ন, দেশের অন্যান্য সংস্থা বা ট্রাস্টের ক্ষেত্রে যেভাবে আয়-ব্যয়, রেজিস্ট্রেশন এবং বিদেশি অনুদানের (FCRA) তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক, ঠিক একইভাবে আরএসএস-এর আয় ও আর্থিক লেনদেনের উৎস সাধারণ মানুষের সামনে আনা হচ্ছে না কেন?
-
আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত: আরএসএস-এর রেজিস্ট্রেশন কতটা আইনি এবং তাদের আয়ের উৎস কী, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও স্বচ্ছতার দাবি তোলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ বিপাকে ‘ডাবর’! মধু থেকে ঘি-ডাবরের ৭ পণ্য নিষিদ্ধ করল FSSAI
রাজনৈতিক চাপ তৈরির অভিযোগ
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের নেতাদের আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার যে চেষ্টা চালানো হচ্ছে, সুপ্রিমোর ওপর এই ধরনের পদক্ষেপ তারই একটি অংশ।
তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা কিংবা রয়্যালটি আটকে রাখার মতো বিস্ফোরক অভিযোগের জবাবে বিজেপির কেন্দ্রীয় বা রাজ্য নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।


