বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে জলজল করছে ফোর-জি (4G) বা ফাইভ-জি (5G) নেটওয়ার্কের প্রতীক। কিন্তু বাস্তবে কাজের সময় মিলছে না ন্যূনতম স্পিড, জরুরি ফোনালাপের মাঝপথেই বারবার কেটে যাচ্ছে লাইন। দেশের অন্যতম বৃহৎ টেলিকম সংস্থা রিলায়েন্স জিও-র (Jio) পরিষেবা নিয়ে এমনই তীব্র ক্ষোভ জমছে গ্রাহক মহলে। গ্রাহকদের একাংশের অভিযোগ—একদিকে যখন দফায় দফায় প্যাক ও রিচার্জের দাম বাড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে পরিষেবা ও কল কোয়ালিটির মান তলানিতে গিয়ে ঠেকছে।
আরও পড়ুনঃ ঐতিহ্য ‘রান্নাপুজো’; উনানের বিশ্রাম ও নারীশ্রমের স্বীকৃতি
গ্রাহকদের ভোগান্তির মূল চিত্র
সম্প্রতি জিও নেটওয়ার্কের ব্যবহারকারীদের মধ্যে যে বিষয়গুলি নিয়ে সবচেয়ে বেশি অসন্তোষ ছড়িয়েছে:
| সমস্যার ক্ষেত্র | গ্রাহকদের অভিযোগ ও বাস্তব পরিস্থিতি |
| নিত্যদিনের কল ড্রপ | গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপের সময় হঠাৎ লাইন কেটে যাওয়া বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এখন প্রতিদিনের সমস্যা। |
| দুর্বল ভয়েস কোয়ালিটি | ফোন কানেক্ট হলেও ওপাশ থেকে স্পষ্ট ও পরিষ্কার গলার আওয়াজ মেলে না, বহু ক্ষেত্রে হঠাৎ সংযোগ সম্পূর্ণ নীরব হয়ে যায়। |
| ফাইভ-জি (5G)-র বাস্তব রূপ | দ্রুতগতির 5G পরিষেবা দেওয়ার দাবি করা হলেও বন্ধ ঘরবাড়ি বা দূরবর্তী অঞ্চলে সংযোগ ফোর-জি (4G)-র চেয়েও দুর্বল হয়ে পড়ে। |
| অতিরিক্ত আর্থিক চাপ | প্যাকের দাম ক্রমাগত বাড়লেও তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে নেটওয়ার্কের পরিকাঠামোগত উন্নতি হচ্ছে না বলে অভিযোগ। |
আরও পড়ুনঃ পাক দূতকে তলব দিল্লির; মাঝ সমুদ্রে ভারতের নৌযানে ধাক্কা পাক যুদ্ধজাহাজের
ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও ট্রাই-এর অবস্থান
প্যাকেজের মূল্যবৃদ্ধির পর গ্রাহকরা আশা করেছিলেন পরিষেবার মান আরও উন্নত হবে। কিন্তু শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই ডেটা স্পিডের ওঠানামা এবং ইনডোর নেটওয়ার্ক না থাকার কারণে ক্ষুব্ধ ব্যবহারকারীরা সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
টেলিকম নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ট্রাই-এর (TRAI) নির্দেশিকা অনুযায়ী টেলিকম সংস্থাগুলির জন্য ‘কোয়ালিটি অফ সার্ভিস’ বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু টাওয়ারের সংখ্যা বাড়ানো এবং ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডের সঠিক ব্যবস্থাপনায় নজর না দিলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি মেলানো কঠিন। পরিষেবার মান দ্রুত না শুধরালে পোর্টিং (MNP)-এর মাধ্যমে বিকল্প নেটওয়ার্কে সরে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিচ্ছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের একাংশ।


