বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, পূর্ব বর্ধমান:
দুর্গাপুজোর বিজয়া দশমী মানেই দেবী বিসর্জন ও বিষাদের আবহ। কিন্তু পূর্ব বর্ধমানের গুসকরার ঐতিহাসিক চোংদার জমিদার বাড়িতে এই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে পালিত হয় এক অনন্য ঐতিহ্য। দশমীতে দেবী প্রতিমা বিসর্জনের পূর্বে দুর্গাদালানে আয়োজিত হয় পরিবারের দুই পূর্বপুরুষ—চতুর্ভুজ চোংদার এবং তাঁর স্ত্রী বিদ্যাসুন্দরী দেবীর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান।
জমিদারি বিলুপ্ত এবং অট্টালিকার জৌলুস ফিকে হলেও প্রায় সাড়ে তিনশো বছরেরও বেশি পুরনো এই সাবেকি পুজো ঘিরে আজও অমলিন বহু প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠান।
আরও পড়ুনঃ প্রাচীন ফ্যাট-শেমিংয়ের এক অনন্য স্মারক; গণেশ চতুর্থীর রাতেই কেন ‘নষ্টচন্দ্র’?
ঐতিহাসিক পটভূমি ও ব্যতিক্রমী আচার
চোংদার বাড়ির পুজোর সূচনা ও দশমীর বিশেষ প্রথার বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় ও ক্ষেত্র | ইতিহাস ও সাবেকি রীতি |
| আনুমানিক বয়স | সাড়ে তিনশো বছরেরও বেশি (৩৫০+ বছর)। |
| মূল প্রতিষ্ঠাতা | চতুর্ভুজ চোংদার (মূল পদবি চট্টোপাধ্যায়, পরবর্তীতে চোংদার উপাধি প্রাপ্ত)। |
| দশমীর বিশেষ প্রথা | এক দশমীতে চতুর্ভুজ চোংদারের মৃত্যু এবং মন্দিরে স্ত্রী বিদ্যাসুন্দরী দেবীর স্বেচ্ছামৃত্যুর স্মৃতিতে দুর্গামন্দিরেই তাঁদের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান। |
| অন্যান্য বৈশিষ্ট্য | একচালার সাবেকি প্রতিমা, চারদিন ধরে অখণ্ড প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, নবমীতে কুমারী পুজো এবং ঘট পরিবর্তন না করার নিয়ম। |
আরও পড়ুনঃ বড় ঘোষণা, বাংলায় চালু হচ্ছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি
অতীতের জৌলুস ও বর্তমান আবহ
একসময় সাতটি গ্রাম জুড়ে বিস্তৃত ছিল চোংদারদের জমিদারি। পুজোর দিনগুলিতে দুর্গাদালানের পাশে শয়ে শয়ে উনুনে তৈরি হতো অন্নভোগ, বসতো যাত্রা ও পালাগানের আসর।
বর্তমানে বারান্দার পলেস্তারা খসে পড়া এবং কারুকার্যময় থামে বয়সের ছাপ স্পষ্ট হলেও, পুজোর চারদিন দূর-দূরান্তের মানুষ ও পরিবারের সদস্যরা একত্রিত হন এই বনেদি বাড়িতে। খড়খড়ির জানালা দিয়ে ঘেরা ঐতিহ্যবাহী এই দুর্গাদালানে মহাষ্টমীর অঞ্জলি এবং সাবেকি আবহ আজও পূর্ব বর্ধমানের লোকসংস্কৃতির এক মূল্যবান দলিল হিসেবে টিকে রয়েছে।


