Monday, 14 September, 2026
14 September
Homeজ্যোতিষ/আধ্যাত্মিকতাGanesh Chaturthi: প্রাচীন ফ্যাট-শেমিংয়ের এক অনন্য স্মারক; গণেশ চতুর্থীর রাতেই কেন 'নষ্টচন্দ্র'?

Ganesh Chaturthi: প্রাচীন ফ্যাট-শেমিংয়ের এক অনন্য স্মারক; গণেশ চতুর্থীর রাতেই কেন ‘নষ্টচন্দ্র’?

ভাদ্র মাসের শুক্লা চতুর্থীর চাঁদ আজও 'নষ্টচন্দ্র' হিসেবেই রয়ে গেছে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ সাংস্কৃতিক ও পৌরাণিক প্রতিনিধি:

ভাদ্র মাসের শুক্লা চতুর্থীর রাত বাঙালির লোকসংস্কৃতিতে ‘নষ্টচন্দ্র’ নামে পরিচিত। প্রাচীন বিশ্বাস অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট রাতে ভুল করেও চাঁদের দিকে তাকাতে নেই। লোকশ্রুতি রয়েছে, এই রাতে চন্দ্র দর্শন করলে মানুষের ভাবমূর্তি ম্লান হয়, জীবনে কলঙ্কের ছায়া পড়ে এবং অলক্ষ্মীর প্রবেশ ঘটে।

সমাজ ও পৌরাণিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রচলিত লোকবিশ্বাসের নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে রূপ ও সৌন্দর্যের অহংকার এবং প্রাচীনকালের এক ‘ফ্যাট-শেমিং’-এর বিরুদ্ধে কঠোর বার্তার ইতিহাস।

আরও পড়ুনঃ  শুধু মহারাষ্ট্র নয়, দেড়শো বছর পার কাঁকিনাড়ায়; শিল্পাঞ্চলে যৌথ সংস্কৃতির বিকাশ

পৌরাণিক ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অভিশাপ

কাহিনি অনুযায়ী, কুবেরের ভবনে ভোজন শেষে বাহন মুষিকের পিঠে চেপে কৈলাসে ফিরছিলেন শ্রীগণেশ। পথে সর্প দেখে বাহন চমকে উঠলে লম্বোদর গণেশ মাটিতে পড়ে যান। সেই আকস্মিক পতন ও শরীরের গঠন দেখে উপহাস করে অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন চন্দ্রদেব।

বিষয় ও ক্ষেত্র পৌরাণিক বিবরণ ও আধুনিক বিশ্লেষণ
ঘটনার স্থান ও কাল ভাদ্র মাসের শুক্লা চতুর্থী তিথিতে কৈলাসের পথ।
চন্দ্রদেবের অপরাধ অপরের দৈহিক রূপ ও স্থূলতা নিয়ে উপহাস করা (আধুনিক পরিভাষায় ‘ফ্যাট-শেমিং’)।
গণেশের অভিশাপ সৌন্দর্য ও রূপের অহংকার চূর্ণ করতে রূপ ও জ্যোতি ক্ষয়ের অভিশাপ।
পরিণতি ও উদ্ধার চন্দ্রের ক্ষমা প্রার্থনা ও পূজার পর অভিশাপ প্রশমিত হয় এবং কলা ফিরে আসে।

আরও পড়ুনঃ  কলকাতার রাস্তায় এবার AI নজরদারি; নিয়ম ভাঙলেই ই-চালান

চন্দ্রকলা, দুই পক্ষ ও সামাজিক বার্তা

পৌরাণিক এই রূপকের মধ্য দিয়েই মূলত চাঁদের দুই পক্ষ—কৃষ্ণপক্ষশুক্লপক্ষ-এর সৃষ্টি বলে ধরা হয়। অভিশাপের ফলে কৃষ্ণপক্ষে চাঁদের জ্যোতি ক্ষয় পেয়ে অমাবস্যার অন্ধকার নেমে আসে; পরবর্তীতে গণেশের করুণায় শুক্লপক্ষে প্রতিদিন একটু একটু করে জ্যোতি বৃদ্ধি পেয়ে পূর্ণিমার রূপ নেয়।

তবুও ভাদ্র মাসের শুক্লা চতুর্থীর চাঁদ আজও ‘নষ্টচন্দ্র’ হিসেবেই রয়ে গেছে। প্রাচীন মায়েরা আজও শিশুদের সতর্ক করে বলেন—

“নষ্টচন্দ্র দর্শনে হইল লক্ষ্মীছাড়া,

দুয়ারে সর্বদাই তার অলক্ষীর বাড়া।”

কারও শারীরিক অক্ষমতা বা বাহ্যিক রূপ নিয়ে উপহাস করা নিছক পরিহাস নয়, বরং চরম অপমানজনক—নষ্টচন্দ্রের এই পৌরাণিক ইতিহাস যুগে যুগে সেই সামাজিক শিক্ষারই স্মারক বহন করে আসছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন