বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
মহাশক্তির আরাধনায় শাক্ত ও তন্ত্রসাধকদের কাছে অতি পবিত্র দিন কৌশিকী অমাবস্যা। প্রতি বছরের মতো এবারও বীরভূমের সিদ্ধপীঠ তারাপীঠে এই বিশেষ তিথিতে লক্ষাধিক ভক্ত ও সাধু-সন্তের সমাগম ঘটতে চলেছে। মহাশ্মশানের পুণ্যভূমিতে তারাপীঠেশ্বরী মা তারার বিশেষ পুজো ও আরাধনায় মেতে উঠবে অগণিত পুণ্যার্থী।
কৌশিকী অমাবস্যা ২০২৬: তিথি ও সময়সূচি
পঞ্জিকা ও বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকার গণনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের কৌশিকী অমাবস্যার সময়সূচি:
-
প্রধান দিন: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার)।
-
তিথি শুরু: ১০ সেপ্টেম্বর, সকাল ১০:১১ মিনিটে।
-
তিথি সমাপ্তি: ১১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার), সকাল ০৮:৫০ মিনিটে।
-
মূল পূজাহোত্র: সূর্যোদয় ও তিথি ব্যাপ্তি অনুযায়ী ১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সারা দিন ও রাত জুড়ে মা তারার প্রধান পুজো, নিশীথ পুজো ও বিশেষ সাধনা অনুষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুনঃ বাঙালি গড়তে চলেছে নতুন নজির! পুজোয় বেড়ানোর ঢল; পাহাড়ে দার্জিলিং-কাশ্মীর, বিদেশে থাইল্যান্ড-ভিয়েতনামের চাহিদা তুঙ্গে
পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক মাহাত্ম্য
কৌশিকী অমাবস্যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মা তারা ও পরম সাধক বামাখ্যাপার পরম অলৌকিক গাথা:
| বিষয় | পৌরাণিক ও ধর্মীয় তাৎপর্য |
| বামাখ্যাপার সিদ্ধিলাভ | কথিত রয়েছে, এই বিশেষ তিথিতেই তারাপীঠের মহাশ্মশানের শ্বেত শিমূলতলায় সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন সাধক বামাখ্যাপা। এই রাতেই মা তারা তাঁকে সাযুজ্য রূপ দর্শন দেন। |
| আবির্ভাব ও নামকরণ | ভক্তদের বিশ্বাসে এটি মা তারার বিশেষ ‘আবির্ভাব তিথি’। চণ্ডী মতে, শুম্ভ-নিশুম্ভ বধের জন্য দেবী পার্বতীর কৃষ্ণকোষ থেকে দেবী কৌশিকীর জন্ম হয়েছিল এই তিথিতেই। |
| কুশ সংগ্রহ ও ‘কৌশী’ | ধর্মীয় আচার পালনে পবিত্র ‘কুশ’ ঘাস ছেদন করার শুভ দিন এটি। সেই কারণে একে লোকমুখে ‘কৌশী অমাবস্যা’-ও বলা হয়। |
তারাপীঠ মহাশ্মশান ও ভক্তদের বিশ্বাস
-
সাধক ও ভক্তের সমাগম: এই বিশেষ রাতে তারাপীঠ মহাশ্মশানে অগণিত তন্ত্রসাধক, কাপালিক ও সাধু-সন্তেরা বিশেষ হোম, যজ্ঞ ও তান্ত্রিক আচারে মগ্ন থাকেন।
-
বাধা-বিপত্তি নাশ: বিশ্বাস করা হয়, কৌশিকী অমাবস্যার নিশীথ রাতে মা তারার আরাধনা করলে জীবনের সমস্ত জটিল গ্রহদোষ, জড়তা ও দূরারোগ্য বাধা-বিপত্তি কেটে যায় এবং ভক্তের মনোবাঞ্ছ পূর্ণ হয়।
তারাপীঠের পাশাপাশি বর্তমানে ঘরে ঘরেও মা তারার ঘট স্থাপন করে ও বিশেষ ভোগ নিবেদন করে এই কৌশিকী অমাবস্যা পালনের রীতি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।


