বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
পারিবারিক বিবাদের মর্মান্তিক পরিণতি। কলকাতার নর্থ পোর্ট থানা এলাকার মন্ডল স্ট্রিট ও পাথুরিয়া ঘাটের সংলগ্ন এলাকায় মধ্যরাতে চলল এলোপাথাড়ি গুলি। ভায়রা ভাইয়ের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ব্যক্তি। অভিযুক্ত যুবক এলাকা ছেড়ে চম্পট দেওয়ায় তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ শিলিগুড়ি জুড়ে বাসি খাবার! খাদ্য দপ্তরের চিরুনি অভিযান
ঘটনার বিবরণ ও ভুক্তভোগীর পরিচয়
-
গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি: আক্রান্তের নাম সন্তোষ চৌধুরী। পেটে গুলি লাগায় তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
-
অভিযুক্ত: হামলার নেপথ্যে রয়েছে সন্তোষের ভায়রা ভাই কার্তিক সোনকার ওরফে ‘খরগোশ’।
-
ঘটনাস্থল ও সময়: শনিবার মধ্যরাতে নর্থ পোর্ট থানা এলাকার পাথুরিয়া ঘাট ও মন্ডল স্ট্রিট সংলগ্ন এলাকায় হামলাটি চালানো হয়।
বিবাদের পটভূমি ও স্যোশাল মিডিয়ায় হুমকি
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত কার্তিক সোনকার সম্প্রতিই জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে। জেল থেকে বেরোনোর পর থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে তার তীব্র পারিবারিক বিবাদ চলছিল:
-
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ও হুমকি: স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদের জেরে অভিযুক্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর ছবি পোস্ট করে বলে অভিযোগ। এর আগে একাধিকবার সে সন্তোষকে হুমকি দেয়। এমনকি শনিবার রাতে গুলি চালানোর ঠিক আগেও সে ফেসবুকে পোস্ট করে হুমকি দিয়েছিল।
-
পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ: প্রতিবেশীদের দাবি, কার্তিকের বিরুদ্ধে আগেই স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানানো হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি।
আরও পড়ুনঃ পুলিশের কাজে বাধা সহ একাধিক অভিযোগ! মঙ্গলবার শেকসপিয়ার সরণি থানায় তলব অভিষেককে
পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি ও পলাতক অভিযুক্ত
শনিবার রাতে কার্তিক পাথুরিয়া ঘাটে এসে ভায়রা ভাই সন্তোষ চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করে। বোনের সঙ্গে বিবাদে সন্তোষ হস্তক্ষেপ করায় তার ওপর চরম আক্রোশ ছিল কার্তিকের।
কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কার্তিক পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করে। এলাকা ফাঁকা হতেই সন্তোষকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে সে। সন্তোষের পেটে গুলি লাগলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। এর পরপরই একটি স্কুটিতে চেপে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় কার্তিক।
ঘটনার পর নর্থ পোর্ট থানার পুলিশ তদন্তে নেমেছে। অভিযুক্ত কার্তিক ওরফে খরগোশকে গ্রেফতার করতে সম্ভাব্য স্থানগুলিতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।


