বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
ক্যামাক স্ট্রিটে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) অফিসের বাইরে লাগানো হোর্ডিং ভাঙাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠল পরিস্থিতি। পুরসভা ও পুলিশের অভিযানে বাধা দেওয়া, পুলিশ কর্মীদের সাথে তুমুল হাতাহাতি এবং পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলেও কোনো অন্তর্বর্তী স্বস্তি না মেলায় এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি জট তৈরি করেছে।
আরও পড়ুনঃ ‘হাইকোর্টের নির্দেশ ভেঙেছেন’, মমতার বিরুদ্ধে FIR
হোর্ডিং খোলার কারণ ও মন্ত্রীর বক্তব্য
পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পুরসভা ও পুলিশের এই অভিযানকে নিরাপত্তাজনিত পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছেন:
-
ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামো: মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, বহুতলের ওপরে লোহার ফ্রেমের মধ্যে লাগানো তৃণমূল কংগ্রেসের বিশাল হোর্ডিংটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল। ঝড়-বৃষ্টির দিনে এটি ভেঙে নিচে পড়লে ১০০–২০০ জনের প্রাণহানি হতে পারত।
-
জবরদখল তদন্ত: হোর্ডিং সরানোর পাশাপাশি জমির বৈধতা ও ট্যাক্সসংক্রান্ত বেআইনি দখলের যে অভিযোগ উঠছে, তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান মন্ত্রী। ওঁর তোপ, “তৃণমূল গত ১৫ বছর ধরে বেআইনি কাজ করেছে।”
ক্যামাক স্ট্রিটে দেড় ঘণ্টার তাণ্ডব ও সংঘাত
বৃহস্পতিবার বিকেলে পুরসভার কর্মীরা গ্যাস কাটার এবং পুলিশ দল নিয়ে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে পৌঁছালে ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়:
-
তৃণমূল নেতৃত্বের উপস্থিতি: খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন।
-
পুলিশের ওপর হামলা: অভিযোগ উঠেছে, পুরকর্মীদের বাধা দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেন তৃণমূল কর্মীরা। শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি।
-
উর্দিধারী পুলিশকে প্রহার: প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই হাতাহাতিতে উর্দিতে থাকা পুলিশ কর্মীদের কলার ধরে হিঁচড়ে কিল-চড়-ঘুষি মারার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে সব বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত পুরকর্মী ও পুলিশ গ্যাস কাটার দিয়ে বিতর্কিত বিলবোর্ডটি কেটে ফেলে।
আরও পড়ুনঃ হিমবাহ ধসে গঠিত হ্রদ ভেঙে নতুন করে বিপর্যয়ের আশঙ্কা, নেপালকে ফের সতর্ক করল চিন
হাইকোর্টে অভিষেক, তবে স্বস্তি মেলেনি
ঘটনার পরেই পুরসভার বিরুদ্ধে নোটিস ছাড়া বেআইনিভাবে হোর্ডিং ভাঙার অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়:
| আইনি পদক্ষেপ | আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ |
| প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ | অভিষেকের আর্জিতে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে শুক্রবার মামলাটি বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরীর বেঞ্চে পাঠানো হয়। |
| আদালতের পর্যবেক্ষণ | বিচারপতি বসু রায়চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সাইনবোর্ড বা হোর্ডিংটি যেহেতু ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে, তাই এখন আর এই মামলার কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই। |
| রক্ষাকবচ খারিজ | আবেদনকারীদের কোনো রকম অন্তর্বর্তী আইনি রক্ষাকবচ দিতে অস্বীকার করে আদালত। |
একদিকে প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও অন্যদিকে আইনি ধাক্কা—দুই মিলিয়ে ক্যামাক স্ট্রিটের এই হোর্ডিং কাণ্ড ঘিরে বিজেপি-তৃণমূলের রাজনৈতিক তরজা নতুন মাত্রা নিয়েছে।


