Saturday, 29 August, 2026
29 August
HomeকলকাতাKazi Nazrul Islam: বিদ্রোহ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ৫০ বছর; প্রয়াণ দিবসে কবি...

Kazi Nazrul Islam: বিদ্রোহ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ৫০ বছর; প্রয়াণ দিবসে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণ

১৯৭৬ সালের এই দিনেই ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন বাংলা সাহিত্যের এই প্রবাদপ্রতিম মহীরুহ।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:

বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের আকাশে সাম্য, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, মানবতা এবং ভালোবাসার অনন্য আলোকবর্তিকা কাজী নজরুল ইসলাম। ২৯ আগস্ট তাঁর প্রয়াণের ৫০ বছর পূর্ণ হলো। ১৯৭৬ সালের এই দিনেই ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন বাংলা সাহিত্যের এই প্রবাদপ্রতিম মহীরুহ।

আরও পড়ুনঃ কলকাতার আকাশে অদ্ভুত আলো! UFO না কি অন্যকিছু?

সংক্ষিপ্ত জীবনী ও বহুমুখী সৃষ্টিশীলতা

১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া কাজী নজরুল ইসলাম খুব অল্প বয়সেই নিজের প্রতিভার সাক্ষর রাখেন:

  • স্বতন্ত্র সাহিত্যধারা: কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধ—সাহিত্যের সর্বক্ষেত্রে ছিল তাঁর পদচারণা।

  • কালজয়ী সৃষ্টি: ‘বিদ্রোহী’, ‘সাম্যবাদী’, ‘অগ্নিবীণা’ ও ‘দোলনচাঁপা’-র মতো বিখ্যাত সৃষ্টিসমূহ বাংলা সাহিত্য ও সমাজভাবনায় এক অভূতপূর্ব চেতনার জোয়ার এনেছিল।

সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও সমাজচিন্তা

নজরুল কেবল ‘বিদ্রোহী কবি’ নন, তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থে আপামর সাধারণ ‘মানুষের কবি’:

  • শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে সরব: ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, সামাজিক বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা এবং নারীর প্রতি অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপসহীন।

  • সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি: ধর্ম ও বর্ণের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি মানুষকে সবার ওপরে স্থান দিয়েছিলেন। তাঁর রচনায় যেমন ইসলামী ঐতিহ্য ও কোরআনের ভাবধারা রয়েছে, তেমনই সমান ছন্দে উঠে এসেছে শ্যামাসংগীত, ভক্তিগীতি ও হিন্দু পুরাণের নানা উপাদান।

আরও পড়ুনঃ নিজেদের মাঠ নেই, তবু রাজ্য চ্যাম্পিয়ন! সুব্রত কাপের মূলপর্বে খেলতে দিল্লি যাচ্ছে কালনার পূর্ব সাহাপুর স্কুল

সংগীত ও সাংবাদিকতায় অবদান

ক্ষেত্র নজরুল ইসলামের বিশেষ অবদান
নজরুলসংগীত শাস্ত্রীয় সংগীতের রাগরাগিণীকে বাংলা গানের সাথে মিলিয়ে সৃষ্টি করেছেন স্বতন্ত্র এক ধারা, যা বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের অঙ্গ।
সাংবাদিকতা ‘ধূমকেতু’ ও ‘লাঙল’ পত্রিকার মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সামাজিক চেতনার প্রচার করেন। লেখার অপরাধে কারাবরণ করলেও তাঁর কণ্ঠ রুদ্ধ হয়নি।
চলচ্চিত্র (১৯৩৪) ‘ধ্রুব’ চলচ্চিত্রে যৌথ পরিচালনা, অভিনয়, গান রচনা, সুরারোপ এবং সংগীত পরিচালনা করে বহুমুখী দক্ষতার পরিচয় দেন।

দীর্ঘ নীরবতা ও বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা

১৯৪২ সালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর নজরুল তাঁর জীবনের প্রায় ৩৪ বছর বাকশক্তি ও স্মৃতিশক্তিহীন অবস্থায় কাটান। প্রয়াণের অর্ধশতক পরেও তাঁর উত্থাপিত প্রশ্নগুলো—সাম্য, মানবিকতা ও স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ—আজও সমান প্রাসঙ্গিক।

কেবল জন্ম বা মৃত্যুদিবস উদযাপনে সীমাবদ্ধ না থেকে, কবি নজরুলের অসাম্প্রদায়িক আদর্শ, ভালোবাসা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রগ্রেসিভ চিন্তাগুলোকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন