কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
বহু দশক ধরে চলা পৃথক রাজ্যের আবেগ ও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের (Permanent Political Solution) দাবিতে ফের উত্তপ্ত দার্জিলিং পাহাড়ের রাজনীতি। বিমল গুরুং, অনিত থাপা কিংবা অজয় এডওয়ার্ডদের মতো প্রতিষ্ঠিত নেতাদের সমীকরণকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পাহাড়ের রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করল নতুন আঞ্চলিক দল ‘গোর্খাল্যান্ড সংগ্রাম পার্টি’ (GSP)।
রবিবার দার্জিলিংয়ের ঐতিহাসিক ‘গোর্খা দুঃখ নিবারণ সম্মেলন’ হলে বিপুল কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে দলের নতুন পতাকা ও দলীয় প্রতীক উন্মোচন করা হয়। দলের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সঞ্জয় থুলুং এবং সাধারণ সম্পাদক লীলা বাহাদুর গুরুং।
আরও পড়ুনঃ কলকাতার রাস্তায় এবার AI নজরদারি; নিয়ম ভাঙলেই ই-চালান
নতুন দলের মূল রাজনৈতিক এজেন্ডা ও কৌশল
নবগঠিত দলের মূল নীতি ও আগামী দিনের পদক্ষেপের প্রধান দিকগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় ও ক্ষেত্র | বিবরণ ও রাজনৈতিক অবস্থান |
| একমাত্র এজেন্ডা | ভারতীয় সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকে সম্পূর্ণ পৃথক ‘গোর্খাল্যান্ড’ রাজ্য গঠন। |
| জিটিএ (GTA) বয়কট | গোর্খাল্যান্ড আঞ্চলিক প্রশাসনকে (GTA) ‘অসংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে জিটিএ নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত। |
| নির্বাচনে অংশগ্রহণ | পঞ্চায়েত, রাজ্য বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচনে পূর্ণ শক্তিতে লড়ার ঘোষণা। |
| সাংগঠনিক বিস্তার | দার্জিলিং পাহাড়ের পাশাপাশি তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলে ব্যাপক গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ার লক্ষ্য। |
আরও পড়ুনঃ জরুরি সামগ্রী প্রস্তুত রাখুন, বাংলায় সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’; ১৮–২৮ সেপ্টেম্বর সতর্কতা ও প্রস্তুতির সময়
নেতৃত্বের বক্তব্য ও স্থায়ী রাজনৈতিক সংকট
সুভাষ ঘিসিংয়ের জিএনএলএফ থেকে শুরু করে বিমল গুরুংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা এবং বর্তমানে অনিত থাপার বিজিপিএম (BGPM)—একের পর এক আঞ্চলিক চুক্তি ও জিটিএ-র মতো প্রশাসনিক ব্যবস্থা হলেও পাহাড়ি মানুষের আত্মপরিচয়ের সংকট মেটেনি বলে দাবি করেছে নতুন দলটি।
-
সভাপতি সঞ্জয় থুলুং-এর বক্তব্য: “বিগত দিনে রাজনৈতিক চুক্তি বা আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের মাধ্যমে যে অস্থায়ী সমাধানের চেষ্টা হয়েছে, তা ব্যর্থ। গোর্খাল্যান্ডের দাবি শুধু পশ্চিমবঙ্গের বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও যুক্ত। সংবিধানের সীমার মধ্যে থেকেই আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজনে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত দল।”
-
সাধারণ সম্পাদক লীলা বাহাদুর গুরুং-এর বক্তব্য: “গত চার মাস ধরে ‘নতুন পার্টি নির্মাণ সমিতি’র মাধ্যমে চা-বাগান ও গ্রামগুলিতে জনসংযোগ চালানোর পর এই দল গঠিত হয়েছে। গোর্খা জাতির সার্বিক কল্যাণ ও স্থায়ী পরিচয় সুনিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শূন্যতা ও সাধারণ মানুষের বঞ্চনার অনুভূতিকে হাতিয়ার করে ‘গোর্খাল্যান্ড সংগ্রাম পার্টি’র এই উত্থান আগামী দিনে পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের নির্বাচনী সমীকরণকে নতুন মোড় দিতে পারে।


