কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
ক্রমাগত রিচার্জের শুল্কবৃদ্ধি সত্ত্বেও উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ উঠছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা—দিনের একটি বড় সময়জুড়ে ধীরগতির ইন্টারনেট ও ঘনঘন নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের অজুহাত সামনে এলেও, পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার প্রকৃত কারণ ও স্থায়ী সমাধান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা।
ইন্টারনেট বিপর্যয়ে প্রভাবিত প্রধান ক্ষেত্রসমূহ
দৈনন্দিন জীবন ও প্রশাসনিক কাজে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিভ্রাটের প্রভাব নিচে তুলে ধরা হলো:
| ক্ষেত্র ও খাত | পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার প্রভাব |
| ব্যাঙ্কিং ও আর্থিক লেনদেন | গ্রাহকেরা ব্যাঙ্কে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও “লিঙ্ক নেই” সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। স্তব্ধ অনলাইন ডিজিটাল লেনদেনও। |
| জরুরি ও প্রশাসনিক পরিষেবা | হাসপাতাল, নার্সিংহোম, সরকারি কার্যালয় ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য আদান-প্রদান এবং জরুরি অনলাইন কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত। |
| শিক্ষা ও বেসরকারি ক্ষেত্র | স্কুল-কলেজের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন, পড়াশোনা এবং বেসরকারি আইটি ও করপোরেট সংস্থার কাজের গতি থমকে যাচ্ছে। |
আরও পড়ুনঃ কড়া সিদ্ধান্ত; জলপাইগুড়ি স্কুলে প্রধান শিক্ষককে মারধর, ছাত্রদের TC দেওয়ার নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর
সমস্যার মূল কারণ ও জনমানসে প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি ও সমতল অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং তার জেরে অপটিক্যাল ফাইবার কেবুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে নেটওয়ার্ক সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরছে টেলিযোগাযোগ সংস্থাগুলি। তবে গ্রাহকদের দাবি, প্রতিনিয়ত বর্ধিত হারে মাসুল গুনেও যদি ন্যূনতম পরিষেবা না মেলে, তবে তার দায় পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকেই নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেট মানবজীবনের অন্যতম মৌলিক চাহিদা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দ্রুত এই কারিগরি ত্রুটি মেরামত করে নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা নিশ্চিত করতে টেলিযোগাযোগ দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন উত্তরবঙ্গবাসী।


