বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
ঝাড়খণ্ডের ব্যবসায়ী নিখিল সবলোক খুনের তদন্তে এবার উঠে এলো কলকাতা পুলিশের যোগসাজশের মারাত্মক অভিযোগ। এই হাই-প্রোফাইল সুপারি কিলিং মামলার তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশের এক ট্রাফিক সার্জেন্ট এবং এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।
অভিযোগ, মূল অভিযুক্ত বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ রাঘবকে নিখিলের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে তাঁর মোবাইল ফোনের ‘টাওয়ার লোকেশন’ গোপন সূত্রে সরবরাহ করতেন ধৃতেরা।
আরও পড়ুনঃ জোড়াফুল তুমি কার? ফ্রিজ হতে পারে ‘তৃণমূল’ নাম আর ‘জোড়াফুল’ প্রতীকটাই! আজ সবার নজর দিল্লিতে
ধৃতদের পরিচয় ও অপরাধ চক্রের রূপরেখা

পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় প্রশাসনিক পদের অপব্যবহার ও তথ্য পাচারের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
| ব্যক্তি ও পদমর্যাদা | ঘটনার সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগ |
| অয়ন গুপ্ত (ট্রাফিক সার্জেন্ট, বেলিয়াঘাটা ট্রাফিক গার্ড) | সিভিক ভলান্টিয়ারের অনুরোধে বেআইনিভাবে নিখিল সবলোকের মোবাইলের লাইভ টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে বের করতেন। |
| টুইঙ্কল দাস (সিভিক ভলান্টিয়ার, চাউলপট্টি রোড) | মূল অভিযুক্ত রাঘবের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। অয়নের কাছ থেকে পাওয়া লোকেশনের তথ্য রাঘবের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মূল মাধ্যম ছিলেন তিনি। |
| রাঘব (মামলার প্রধান অভিযুক্ত) | টাওয়ার লোকেশনের তথ্যের ভিত্তিতে সুপারি কিলারদের দিয়ে নিখিলের প্রতিমুহূর্তের গতিবিধির ওপর নজর রাখতেন এবং খুনের ছক সাজাতেন। |
আরও পড়ুনঃ দক্ষিণবঙ্গের উপর অ্যাক্টিভ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু, প্রস্তুত থাকুন, নিরাপদ থাকুন
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও ঝাড়খণ্ড পুলিশের অভিযান
ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল গত ২৪ আগস্ট। ঝাড়খণ্ডের চাণ্ডিল থানা এলাকায় ৩৩ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে একটি হোটেলের সামনে ব্যবসায়ী নিখিল সবলোককে লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা প্রায় ৯ রাউন্ড গুলি চালায়। কাঁধ, পিঠ ও ঘাড়ে গুলিবিদ্ধ নিখিলকে জামশেদপুরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়িক শত্রুতার কথা ভাবা হলেও তদন্ত এগোনোর সাথে সাথে উঠে আসে অন্তত ১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ‘সুপারি দিয়ে খুনে’র তত্ত্ব।
বৃহস্পতিবার লালবাজারে লালবাজার গোয়েন্দা দপ্তরের (DD) উপস্থিতিতে দীর্ঘক্ষণ ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে জেরা করা হয় সার্জেন্ট অয়ন গুপ্ত ও সিভিক ভলান্টিয়ার টুইঙ্কল দাসকে। বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মেলার পর দু’জনকেই আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে ঝাড়খণ্ড পুলিশের যৌথ তদন্তকারী দল (SIT)। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, পুলিশি পরিকাঠামো ব্যবহার করে এই ধরণের লোকেশন পাচারের চক্রে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না।


