কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
বিশেষ পরিবেশ ও বন বিষয়ক প্রতিবেদন:
উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সের বক্সা টাইগার রিজার্ভে (Buxa Tiger Reserve) বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রজনন প্রক্রিয়া জোরদার করতে এক বড় উদ্যোগ নিয়েছে বন দফতর। বিহারের ভাল্মিকি টাইগার রিজার্ভ (Valmiki Tiger Reserve) থেকে একটি শক্তিশালী বাঘিনীকে বক্সায় স্থানান্তরিত করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রাথমিক সমীক্ষায় প্রায় ১০ থেকে ১২টি বাঘিনীকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২ অক্টোবর বক্সার বনে বাঘিনীটিকে মুক্ত করার প্রায় ১৫ দিন আগে চূড়ান্ত নির্বাচন, ট্র্যাঙ্কুলাইজেশন (ধরা) ও স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এই উদ্দেশ্যে ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি (NTCA) এবং ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (WII)-র একটি যৌথ বিশেষজ্ঞ দল ভাল্মিকিতে প্রাথমিক পরিদর্শন শেষ করেছে।
আরও পড়ুনঃ দুই বাংলার আকাশে প্রবল আলোর তাণ্ডব, প্রবল বজ্রপাতের আশঙ্কা! ধেয়ে আসছে শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় “ইন্দ্র”
কোন মাপকাঠিতে নির্বাচন করা হবে বাঘিনীকে?
এনটিসিএ-র সদস্যসচিব সঞ্জয় কুমার পাঠক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র বয়স বা দৈহিক গঠন নয়, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আচরণগত ও স্বাস্থ্যগত দিক খতিয়ে দেখে তবেই বাঘিনী নির্বাচন করা হবে:
-
আঞ্চলিক আচরণ ও বয়স: তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক বাঘিনী, যে নিজের বিচরণক্ষেত্র তৈরি করার চেষ্টা করছে।
-
শিকারের দক্ষতা: প্রাকৃতিক পরিবেশে স্বাভাবিক শিকার ধরার শতভাগ সক্ষমতা থাকতে হবে।
-
মানুষের সঙ্গে সংঘাত এড়ানো: মানব-বনজীবন সংঘাত বা লোকালয়ে গবাদি পশু শিকারের কোনো পূর্ব ইতিহাস থাকা চলবে না।
-
শারীরিক সুস্থতা: সামগ্রিক রোগমুক্ত স্বাস্থ্য ও বংশবৃদ্ধির অনুকূল শারীরিক ক্ষমতা।
বক্সার পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে আসছে এনটিসিএ টিম
বাঘিনী স্থানান্তরের পূর্বে আগামী সপ্তাহে এনটিসিএ-র একটি বিশেষ দল বক্সা টাইগার রিজার্ভের পরিকাঠামো, নিরাপত্তা, সফট-রিলিজ এনক্লোজার ও খাবারের প্রাপ্যতা সরেজমিনে পরিদর্শন করতে আসছে।
আরও পড়ুনঃ ফের কাঁপল দক্ষিণবঙ্গ; মুর্শিদাবাদে ভূমিকম্প, উৎপত্তিস্থল ফরাক্কা-ধুলিয়ান সীমান্ত
প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অনুদান ও ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেটের জটিলতা
সমগ্র প্রকল্পটি কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থসাহায্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবে অর্থ বরাদ্দের কিছু প্রশাসনিক তথ্য সামনে এসেছে:
| বিষয় | আর্থিক বিবরণ ও বর্তমান স্থিতি |
| কেন্দ্রীয় বরাদ্দ (২০২৬-২৭) | প্রজেক্ট টাইগার ও এলিফ্যান্ট প্রকল্পের অধীনে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বন দফতর জুন মাসে প্রথম কিস্তিতে প্রায় ৩.২ কোটি টাকা পেয়েছে। |
| বক্সার জন্য নির্দিষ্ট তহবিল | প্রাপ্ত অনুদানের মধ্যে বক্সা টাইগার রিজার্ভের পরিকাঠামোগত সংস্কারের জন্য বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা। |
| দ্বিতীয় কিস্তির জট | এনটিসিএ সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রথম কিস্তির অর্থ ব্যবহারের ‘ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট’ (UC) এখনও জমা দেয়নি। ফলে নিয়ম অনুযায়ী দ্বিতীয় কিস্তির ছাড়পত্র এখনও মেলেনি। |
যদি এই প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে এবং বিশেষজ্ঞ মূল্যায়নে বাঘিনীটিকে সঠিক সময়ে স্থানান্তরিত করা যায়, তবে তা বক্সার চিরচেনা জঙ্গলে নতুন জেনেটিক বৈচিত্র্য আনবে এবং ডুয়ার্সের বাঘ সংরক্ষণের ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।


