বিশেষ আবহাওয়া প্রতিবেদন:
নিম্নচাপ অক্ষরেখা ও শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্তের জোড়া ফলায় রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে ঘোর বর্ষার অনুকূল পরিবেশ। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর জলীয় বাষ্পের প্রভাবে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গসহ উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দফায় দফায় মাঝারি থেকে অত্যন্ত ভারী বর্ষণ হতে পারে। এর সাথে সাথে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমবঙ্গের আকাশে তৈরি হওয়া শক্তিশালী বজ্রগর্ভ মেঘপুঞ্জের (Cumulonimbus clouds) কারণে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রবল থেকে অতি-প্রবল বজ্রপাতের বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মেঘশূন্য বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর, তীব্র খরা ও ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা! উত্তর ভারত মহাসাগরে এল নিনোর থাবা
বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সম্ভাব্য গতিপ্রকৃতি
আবহাওয়া দফতর সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন রাজ্যের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকবে এবং বৃষ্টির তীব্রতা থাকবে নিম্নরূপ:
-
সর্বাধিক তীব্রতার সময়: প্রধানত দুপুর ও বিকেলের দিকে বৃষ্টি বলয়ের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকবে।
-
স্থায়িত্ব: একেক দফার বৃষ্টিপাত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলতে পারে। কিছু কিছু স্থানে টানা ৩ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় ধরে বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
-
বজ্রবিদ্যুৎ: ঘনঘন মারাত্মক বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে খোলা জায়গায় থাকা মানুষের জীবনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
রেড ও অরেন্জ সতর্কতার আওতায় যে সব জেলা
উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম পশ্চিমবঙ্গের ওপর এই মুহূর্তে প্রবল মেঘপুঞ্জ অবস্থান করছে, যার প্রভাবে রাতভর ভারী থেকে অতি-ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে:
| সততর্কতার মাত্রা | জেলাসমূহ | সম্ভাব্য আবহাওয়া |
| বিশেষ চরম সতর্কতা (হাই অ্যালার্ট) | বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর | রাতভর প্রবল বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী থেকে অতি-ভারী বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া এবং অত্যধিক তীব্র বজ্রপাতের আশঙ্কা। |
| ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা | কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি | রাতভর বজ্রবিদ্যুৎসহ ক্রমাগত মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ। |
| তুলনামূলক শান্ত আবহাওয়া | কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলা | এই মুহূর্তে দক্ষিণবঙ্গের বাকি অংশে বড় কোনো মেঘপুঞ্জ তৈরি না হওয়ায় রাতে নতুন করে শক্তিশালী বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা কম। তবে ৭ তারিখ থেকে বৃষ্টি বাড়বে। |
আরও পড়ুনঃ হরমনপ্রীত কৌরের ঐতিহাসিক বিশ্বরেকর্ড; মহিলা এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত করে সেমিফাইনালে ভারত
জরুরি প্রশাসনিক ও জীবনদায়ী সুরক্ষাবিধি
বজ্রপাতের মাত্রা বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে বলে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে:
-
খোলা স্থান ত্যাগ: আকাশে কালো মেঘ জমতে দেখলে ছাদ, মাঠ বা জলাশয়ের ধারে থাকবেন না। বজ্রপাতের সময় অবিলম্বে নিরাপদ পাকা ভবনের ছাদের নিচে আশ্রয় নিন।
-
বিপজ্জনক আশ্রয় এড়ান: কোনো অবস্থাতেই উঁচু গাছ, ধাতব খাঁচা, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা ল্যাম্পপোস্টের নিচে দাঁড়াবেন না।
-
জলাশয় এড়িয়ে চলুন: বজ্রপাতের সম্ভাবনা তৈরি হলে পুকুর, নদী বা অন্য জলাশয়ে স্নান করা বা মাছ ধরা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকুন।
-
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে নয়: দুপুর ও বিকেলের দিকে তীব্র বজ্রঝড়ের সময়ে নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া খোলা রাস্তায় না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


