Sunday, 6 September, 2026
6 September
Homeআন্তর্জাতিক নিউজWorld Map: জাতিসংঘে নতুন বিশ্ব মানচিত্র অনুমোদন; বিরোধিতা যুক্তরাষ্ট্রের

World Map: জাতিসংঘে নতুন বিশ্ব মানচিত্র অনুমোদন; বিরোধিতা যুক্তরাষ্ট্রের

ফ্লেমিশ মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মারকেটর মূলত নৌশিক্ষা ও সমুদ্রপথে দিকনির্ণয়ের সুবিধার জন্য এটি তৈরি করেছিলেন।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন:

পাঁচশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রের বিকৃতি সংশোধন করে বিশ্ব মানচিত্রে নতুন যুগের সূচনা করল জাতিসংঘ। সাধারণ পরিষদে ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রচলিত ‘মারকেটর প্রজেকশন’ (Mercator Projection)-এর পরিবর্তে ‘ইকুয়াল আর্থ’ (Equal Earth) নামক নতুন বিশ্ব মানচিত্র গ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন এই মানচিত্রে মহাদেশগুলোর প্রকৃত আয়তন আরও বাস্তবসম্মতভাবে ফুটে উঠবে; যেখানে আফ্রিকা মহাদেশকে পূর্বের তুলনায় অনেক বড় এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাকে তাদের প্রকৃত আয়তন অনুযায়ী তুলনামূলক ছোট দেখাবে।

গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে উপস্থাপিত এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১৬৪টি দেশ। তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং আরও ৬টি সদস্য দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।

আরও পড়ুনঃ বক্সায় রয়্যাল বেঙ্গলের বংশবৃদ্ধি, বিহারের ভাল্মিকি জঙ্গল থেকে আসছে বাঘিনী

মারকেটর প্রজেকশন বনাম ইকুয়াল আর্থ: পরিবর্তনের প্রধান দিক

প্রচলিত ১৬ শতকের মানচিত্রের সীমাবদ্ধতা দূর করে নতুন মানচিত্রে পৃথিবীর গোলকীয় আয়তনকে সমতলে নিখুঁত করার মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • মারকেটর প্রজেকশনের বিকৃতি (১৫৬৯): ফ্লেমিশ মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মারকেটর মূলত নৌশিক্ষা ও সমুদ্রপথে দিকনির্ণয়ের সুবিধার জন্য এটি তৈরি করেছিলেন। তবে এতে বিষুবরেখা থেকে দূরের দেশগুলি (উত্তর গোলার্ধ) কৃত্রিমভাবে অনেক বড় দেখাত। উদাহরণস্বরূপ—আফ্রিকার আয়তন গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে ১৪ গুণ বড় হওয়া সত্ত্বেও মারকেটর মানচিত্রে দুটিকে প্রায় সমান আকারের দেখাত।

  • ইকুয়াল আর্থের সমতা (২০১৮): মানচিত্রবিদ বোয়ান সাভরিচ ও তাঁর দল কর্তৃক উদ্ভাবিত এই নতুন প্রজেকশনে প্রতিটি মহাদেশের আপেক্ষিক আয়তন ও অনুপাত বজায় রাখা হয়েছে। ফলে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও ওশেনিয়ার প্রকৃত ভৌগোলিক বিশালতা উঠে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ গৃহযুদ্ধে অস্তিত্বের সংকটে K.C.Das; বন্ধ হচ্ছে একের পর এক আউটলেট

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক মতভেদ

মানচিত্র পরিবর্তনের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বিশ্ব রাজনীতিতেও নতুন চর্চার জন্ম দিয়েছে:

দেশ / সংস্থা অবস্থান উত্থাপিত যুক্তি ও প্রতিক্রিয়া
টোগো (আফ্রিকা) প্রস্তাবক টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসি জানান, “মানচিত্র কখনোই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নয়। শতাব্দী ধরে বিকৃত মানচিত্র দেখিয়ে বৈশ্বিক ধারণাকে প্রভাবিত করা হয়েছে। এটি তথাকথিত ‘কগনিটিভ জাস্টিস’ বা প্রজ্ঞাগত ন্যায়বিচারের পদক্ষেপ।”
যুক্তরাষ্ট্র বিপক্ষে ভোট মার্কিন প্রতিনিধি ইয়ারিনা ফেরেনসেভিচ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সংকট ফেলে জাতিসংঘ ১৬ শতকের মানচিত্র ও ক্ষতিপূরণের আলোচনা নিয়ে সময় নষ্ট করছে, যার ফলে সংস্থাটি বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে।”
ফ্রান্স পক্ষে ভোট ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো জানান, ফ্রান্স আর মারকেটর মানচিত্র ব্যবহার করবে না। আফ্রিকার সাথে, বিশেষ করে প্রাক্তন উপনিবেশগুলির সাথে নতুন কূটনৈতিক সুসম্পর্ক গড়ার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ।

জাতিসংঘের এই ঘোষণার পর সদস্য দেশগুলোকে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মারকেটর প্রজেকশনের বদলে এই নতুন ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্র ব্যবহার চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন