Sunday, 6 September, 2026
6 September
Homeসমস্তISRO: আগুন নিভছে না ISRO-র! বেসরকারিকরণের ছোঁয়া লাগতেই আশঙ্কায় ইসরোর বিজ্ঞানীরা

ISRO: আগুন নিভছে না ISRO-র! বেসরকারিকরণের ছোঁয়া লাগতেই আশঙ্কায় ইসরোর বিজ্ঞানীরা

ইতিহাস গড়ে ওঠা এই সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এখন বেসরকারিকরণ ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট লিখিত জবাব চেয়েছেন।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ সংবাদ প্রতিবেদন:

ভারতের মহাকাশ গবেষণার গর্ব ও বৈজ্ঞানিক আত্মমর্যাদার প্রতীক ‘ইসরো’ (ISRO)-র ভেতরে এবার তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি অনুযায়ী মহাকাশ খাতে বেসরকারি সংস্থাসমূহের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকেই ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার বিজ্ঞানীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, গত কয়েক মাসে গগনযান মিশনের (Gaganyaan Mission) সাথে যুক্ত গবেষকসহ প্রায় ১২০ জন বিজ্ঞানী চাকরি ছেড়ে ইস্তফা দিয়েছেন।

সংস্থার অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর, ইতিহাস গড়ে ওঠা এই সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এখন বেসরকারিকরণ ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট লিখিত জবাব চেয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  জাতিসংঘে নতুন বিশ্ব মানচিত্র অনুমোদন; বিরোধিতা যুক্তরাষ্ট্রের

বিজ্ঞানীদের প্রধান উদ্বেগ ও মূল দাবিসমূহ

দশকের পর দশক ধরে সীমিত বাজেটে চন্দ্রযান ও মঙ্গলযানের মতো ঐতিহাসিক সাফল্য এনে দেওয়া বিজ্ঞানীরা মূলত স্বচ্ছতার দাবি তুলেছেন:

  • গবেষণাগারে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা: বিজ্ঞানীদের লিখিত উদ্বেগের মূল বিষয় হলো—ইসরো কি ভবিষ্যতে কেবল একটি ‘আর অ্যান্ড ডি বুটিক’ (Residual R&D Boutique) বা ছোট গবেষণা কেন্দ্রে পরিণত হবে, আর মূল উৎপাদন ও বড় বড় মিশনের কাজ বেসরকারি হাতে চলে যাবে?

  • স্বচ্ছ নীতিমালার দাবি: কর্মীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁরা মহাকাশ খাতের বিকাশের বিরোধী নন। তবে ঠিক কোন কাজগুলো সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং কোনগুলো বেসরকারি সংস্থাকে হস্তান্তর করা হবে, তার একটি স্পষ্ট আইনি ও লিখিত রূপরেখা (Roadmap) প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  ব্যাহত হাওড়া-দিল্লি মেইন লাইনের ট্রেন চলাচল; লাইনচ্যুত আলিপুরদুয়ার-দিল্লি মহানন্দা এক্সপ্রেস

মগজ পাচার ও সরকারি কড়াকড়ির চিত্র

বেসরকারি মহাকাশ খাতের আকাশছোঁয়া বেতন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার আকর্ষণে বিজ্ঞানীদের পদত্যাগ সামাল দিতে কেন্দ্র আইনি পদক্ষেপ নিলেও সমস্যা মেটেনি:

ক্ষেত্রের তুলনা সরকারি সংস্থা (ISRO) বেসরকারি মহাকাশ খাত (Private Space Sector)
আকর্ষণ চাকরির স্থায়িত্ব ও দেশের জন্য কাজ করার গৌরব। বিপুল পরিমাণ বেতন, লভ্যাংশ এবং কাজের নমনীয় পরিবেশ (Flexibility)।
কর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সমন্বিত কাজের সংস্কৃতি হারানোর ভয়। উন্নত পরিকাঠামো ও দ্রুত প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ বিগত মাসে কেন্দ্র ইস্তফার নিয়মাবলী আরও কঠিন ও কঠোর করেছে। নিয়মের কড়াকড়ি সত্ত্বেও অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের টানা বন্ধ করা যাচ্ছে না।

গগনযানের মতো অতি-সংবেদনশীল ও জটিল মানব মহাকাশ মিশনের মাঝপথে অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের ইস্তফা দেওয়া কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি ইসরোর ভেতরের গভীর মনস্তাত্ত্বিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যে সংস্থা ভারতকে বিশ্ব মহাকাশ প্রতিযোগিতার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে, সেখানে বাজারকেন্দ্রিক অর্থনীতি ও মূল বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্যের মধ্যবর্তী দ্বন্দ্বের দ্রুত সমাধান চাইছেন দেশের বিশিষ্ট মহাকাশবিজ্ঞানীরা।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন