নিটের প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ধর্মতলায় সিজেপি (CJP) এবং ছাত্র সংগঠনগুলির আন্দোলন চলাকালীন হিংসা ও সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় পুলিশ ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত সিপি (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, ধৃতদের কেউই ছাত্র নন; তাদের “অশান্তি সৃষ্টিকারী” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা সিজেপির সমাবেশে ভাঙচুরে অংশ নিয়েছিল। এদিকে সিজেপি কলকাতা পুলিশকে ইমেল করে জানিয়েছে যে, ধৃতদের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

ধৃতদের বিস্তারিত তালিকা: (১১ জনের বিস্তারিত তালিকা আমাদের হাতে)
১) ইরফান খুরশেদ (৩০), পিতা – মরহুম মোঃ খুরশেদ, ঠিকানা – ভবানী দত্ত লেন, থানা – জোড়াসাঁকো, কলকাতা – ৭৩
২) আরশাদ আলি ওরফে সাজিদ (৫০), পিতা – মোঃ আলি, ঠিকানা – পাটওয়ার বাগান লেন, থানা – আমহার্স্ট স্ট্রিট, কলকাতা – ০৯
৩) মোঃ মইনুদ্দিন (২৬), পিতা – মোঃ শাহাবুদ্দিন, ঠিকানা – জি. জে. খান রোড, থানা – তিলজলা, কলকাতা – ১৭
৪) মোঃ আলমগীর ওরফে রাজু (৪৮), পিতা – মরহুম মোঃ আকবর, ঠিকানা – মার্কুইস স্কোয়ার, থানা – জোড়াসাঁকো, কলকাতা – ০৭
৫) ইমরান আহমেদ ওরফে গোপী (১৯), পিতা – শেখ আমিন, ঠিকানা – মার্কুইস স্কোয়ার, থানা – জোড়াসাঁকো, কলকাতা – ০৭
৬) খালিদ রেজা ওরফে রিঙ্কু (৪৭), পিতা – মরহুম হাজী আবু শামস আব্দুল গফ্ফুর, ঠিকানা – মদন মোহন বর্মন স্ট্রিট, থানা – জোড়াসাঁকো, কলকাতা – ০৭
৭) জামির আহমেদ ওরফে মিন্কু (৪২), পিতা – আমির আহমেদ, ঠিকানা – মেহের আলি রোড, থানা – বেনিয়াপুকুর, কলকাতা – ১৭
৮) মহসিন খান (৩০), পিতা – মোঃ মবিন খান, ঠিকানা – বেক বাগান রো, থানা – কারায়া, কলকাতা – ১৭
৯) দীপক ভৌমিক ওরফে ভিকি (৩৮), পিতা – অশোক ভৌমিক, ঠিকানা – রাধা গোবিন্দ সাহা লেন, থানা – কারায়া, কলকাতা – ১৭
১০) মোঃ আজাদ, পিতা – মোঃ ফারুকী, ঠিকানা – পাহাড়পুর রোড, গার্ডেনরিচ, কলকাতা – ২৫ (রাজ্য থেকে পালানোর সময় অণ্ডালের দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে থেকে গ্রেফতার)
১১) মোঃ আফরোজ, পিতা – মোঃ সাব্বির, ঠিকানা – রাজাবাগান গেট, পাচাড়া, মেটিয়াবুরুজ, কলকাতা – ১৮ (রাজ্য থেকে পালানোর সময় অণ্ডালের দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে থেকে গ্রেফতার)
বিতর্ক:
মুখ্যমন্ত্রী যে পাঁচজনের নাম নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেছিলেন, তার মধ্যে একজন হলেন মো. আফরোজ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) নেতাদের সাথে আফরোজের ভিডিও সামনে আসায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং দলের সাথে তার সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনো এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
আরও পড়ুনঃ সাবধান, যা পারছেন তা লিখে ফেলছেন! সচেতন হোন নিজের পরিবারের কথা ভাবুন
প্রেক্ষাপট:
ধর্মতলায় প্রতিবাদ আন্দোলন একসময় রণক্ষেত্রের রূপ নেয়, যখন ইট, বোতল, লাঠি এবং জুতো ছোড়া হয়। পুলিশ কর্মীদের উপর হামলা হয় এবং একাধিক সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। এদের মধ্যে রয়েছেন চিত্র সাংবাদিক দীপঙ্কর দাশগুপ্ত ও মাখন পাত্র এবং সাংবাদিক সুমন মহাপাত্র। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।


