বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, মেদিনীপুর:
বিধানসভা ভোটের পর ফের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে তপ্ত হয়ে উঠেছে পূর্ব মেদিনীপুরের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে লড়াইয়ের তোড়জোড় শুরু হলেও রাজনৈতিকভাবে চরম ব্যাকফুটে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরের কোন্দল ও হেভিওয়েট স্থানীয় নেতাদের নির্লিপ্ততার কারণে নন্দীগ্রামে প্রার্থী বাছাই করতেই কালঘাম ছুটছে ঘাসফুল শিবিরের। একদিকে প্রবীণ নেতা শেখ সুফিয়ানের রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা, অন্যদিকে আন্দোলন পর্বের অন্যতম মুখ আবু তাহেরের প্রকাশ্য বিদ্রোহ—সব মিলিয়ে উপনির্বাচনের মুখে চরম অস্বস্তিতে তৃণমূল।
এমনকি মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমারের ডাকা উপনির্বাচন সংক্রান্ত সর্বদলীয় বৈঠকেও তৃণমূলের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি দলের অন্দরের ডামাডোলকেই স্পষ্ট করে দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ দুর্নীতির চূড়া; ১৫ কোটি টাকা জমা অভিষেকের আপ্ত-সহায়কের ব্যাঙ্কে
‘নিজে এসে দাঁড়িয়ে দেখান’: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ তাহেরের
নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়কাল থেকে ঘাসফুল শিবিরের সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রবীণ নেতা আবু তাহের দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন:
| নেতার নাম | রাজনৈতিক বক্তব্য ও অবস্থান |
| আবু তাহের | “২০২১ সালে নিজেই নিজের নাম ঘোষণা করেছিলেন। বাম আমল থেকে আমরা লড়াই করেছি, আমাদের নামে এখনও ১০০র বেশি মামলা রয়েছে। সুদিনে আমাদের সাথে কথা বলা হয়নি, আর এখন দলের দুর্দিনে প্রার্থীর খোঁজ চলছে। সাহস থাকলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এসে আবারও নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে দেখান।” |
| শেখ সুফিয়ান | “রাজ্য বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যাই চাক, আমি লড়ব না। ২০০৬ সালে রক্তঝরা লড়াই করেছি, তখন দল গুরুত্ব দেয়নি। পরিবারও রাজনীতি থেকে সরতে বলছে, আমি এখন অবসরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।” |
| অখিল গিরি | রামনগরের প্রবীণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী অখিল গিরি অবশ্য দাবি করেছেন, “শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে কয়েকটি সম্ভাব্য নাম পাঠানো হয়েছে। দল যাঁকে অনুমোদন দেবে, তাঁর পক্ষেই সবাই লড়াই করবে।” |
আরও পড়ুনঃ হায় রে, এই হল বাংলাদেশের সামরিক ক্ষমতা! গোলা ছুঁড়তেই উড়ে গেল ট্যাঙ্কারই
ফলতার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা এবং বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান
নন্দীগ্রামে তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ সংকটের সুবিধা নিতে প্রস্তুত বিজেপি। সভার মঞ্চ থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, নন্দীগ্রামের ফলাফল ফলতা কেন্দ্রের মতোই হতে চলেছে। ফলতায় রাজনৈতিক ব্যাকফুটে গিয়ে যেভাবে তৃণমূল প্রার্থী শেষ মুহূর্তে পিছু হেঁটেছিলেন, নন্দীগ্রামেও তৃণমূলের সংগঠনে তা-ই হতে চলেছে বলে গেরুয়া শিবিরের দাবি।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আন্দোলন পর্বের পুরোনো মুখেরা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় এবং প্রার্থী হিসেবে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী খুঁজে না পাওয়ায় নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে শুরুতেই কয়েক কদম পিছিয়ে পড়েছে রাজ্যের মমতা পন্থী তৃণমূল।


