কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
১৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষককে নিগ্রহ ও ভাঙচুরের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য শিক্ষা দপ্তর। শুক্রবার বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক নিগ্রহ বা কোনো ধরনের অনুশাসনহীনতা বরদাস্ত করা হবে না। ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদের শনিবারের মধ্যে চিহ্নিত করে বিদ্যালয় থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (TC) বা ছাড়পত্র দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
একই সাথে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও পরিকাঠামোগত সুরক্ষায় অবিলম্বে জেলা স্কুলের নতুন পরিচালনা সমিতি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
আরও পড়ুনঃ প্রবল বৃষ্টিতে শিমলায় ভয়াবহ ধস; অবরুদ্ধ জাতীয় সড়ক, ব্যাহত স্বাভাবিক জনজীবন
উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ
শুক্রবার প্রশাসনিক ও শিক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর যে মূল সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে:
| ক্ষেত্র ও বিষয় | গৃহীত পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত |
| অভিযুক্তদের শাস্তি | অভিযুক্ত ছাত্ররা আর জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে পড়তে পারবে না। তাদের অবিলম্বে টিসি (TC) দেওয়া হবে। |
| শিক্ষার সুযোগ বহাল | মানবিক দিক ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে অভিযুক্তরা শহরের অন্য যেকোনো স্কুলে ভর্তি হয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে। |
| প্রশাসনিক পর্যালোচনা | জেলাশাসক অদিতি চৌধুরী, স্থানীয় বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী ও মাধ্যমিক জেলা স্কুল পরিদর্শক (DI) সুজিত সরকারের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। |
| অন্যান্য স্কুলের সঙ্গে সমন্বয় | পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শহরের ২২টি স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং প্রাক্তনী সংসদের প্রতিনিধিদের সাথেও বিশেষ আলোচনা করেন শিক্ষামন্ত্রী। |
আরও পড়ুনঃ উধাও ঘরের চাল; বারুইপুরে স্থানীয় তৃণমূল নেতার বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
ঘটনার নেপথ্য ও পটভূমি
গত ৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান ও মিড-ডে মিলের খাবার নিবেদনকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে:
-
বচসা ও সংঘর্ষ: মিড-ডে মিলের আয়োজন নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে প্রধান শিক্ষক ধর্মচাঁদ বারুইয়ের সঙ্গে একদল ছাত্রের ঝামেলা বাঁধে।
-
ভাঙচুর ও নিগ্রহ: অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষককে মারধর ও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়, যার ফলে তাঁর মাথা ফেটে যায়। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের ঘরের কাচ ও দরজা ভাঙচুর করা হয়।
-
পুলিশি উদ্ধার: খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ছাত্ররা পুলিশের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখায়। দীর্ঘক্ষণ পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আহত প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শিক্ষা দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, শিক্ষক নিগ্রহের পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো ইন্ধন বা ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তাও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, আগামীতে ছাত্র-শিক্ষক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে প্রধান শিক্ষকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


