রাজ্যজুড়ে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের জারি থাকা ধারাবাহিক নজরদারির মুখে এবার লেকটাউনের বেশ কিছু নামী রেস্তরাঁ ও বিরিয়ানির দোকান। শুক্রবার লেকটাউন এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে রাজ্য ফুড সেফটি বিভাগ, ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তর এবং লেকটাউন থানার পুলিশ একটি রেস্তরাঁর ফ্রিজ থেকে অন্তত ৬০ কেজি পচা মাংস উদ্ধার করেছে।
দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট রেস্তরাঁটি প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর পুত্র সমুদ্র বসুর মালিকানাধীন। ইতিমধ্যেই চরম অনিয়মের অভিযোগে ওই রেস্তরাঁকে নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং দুই দিনের জন্য তার পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ রাজাবাজার, বেলেঘাটা অঞ্চলে বেআইনি বহুতলের রমরমা! খোঁজার ভার সিবিআই-কে দিল হাই কোর্ট
অভিযান ও উদ্ধারের মূল বিবরণ
খাদ্য নিরাপত্তা বিধি ভঙ্গের ঘটনায় প্রশাসনিক অনুসন্ধানের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

| বিষয় ও ক্ষেত্র | পরিদর্শনের পর্যবেক্ষণ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ |
| উদ্ধার হওয়া সামগ্রী | ডিপ ফ্রিজ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৬০ কেজি পচা ও বাসী মাংস। |
| স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন | রান্নাঘরে মাছি-মশার উপদ্রব, নোংরা পরিবেশ এবং পানীয় জলের মান সংরক্ষণে মারাত্মক গাফিলতি ধরা পড়েছে। |
| আইনগত পদক্ষেপ | লেকটাউনের একটি শাখা ২ দিনের জন্য বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অপরটির বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নোটিশ পাঠানো হয়েছে। |
| নমুনা সংগ্রহ (অন্যান্য দোকান) | সংলগ্ন বিরিয়ানির দোকান থেকেও ফ্রোজেন পনির, কাসুন্দি ও লোকাল ভেন্ডারের জলের বোতলের নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাগারে (Lab) পাঠানো হয়েছে। |
আরও পড়ুনঃ মাত্র ১৭ মিনিটের ব্যবধান; ২৫ বছর পর আজও টাটকা ৯/১১-র ক্ষত
প্রশাসনের কড়া অবস্থান
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, জনস্বাস্থ্যের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না—তা সে সাধারণ ব্যাবসায়ী হোক কিংবা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের প্রতিষ্ঠান। খাদ্য নিরাপত্তা আইন (FSSAI) অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত রাখার যে কড়া প্রক্রিয়া কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় শুরু হয়েছে (যেখানে সম্প্রতি ৫০টিরও বেশি রেস্তরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে), তা অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, লেকটাউন ও সংলগ্ন এলাকার অন্যান্য ক্যাফে এবং বিরিয়ানির দোকানগুলোতেও নিয়মিত পেস্ট কন্ট্রোল (কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ) ও কর্মীদের ফুড সেফটি ট্রেনিং সংক্রান্ত নথি পরীক্ষার কাজ জোরদার করা হয়েছে।


