বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিবেদন:
যৌন উদ্দীপনা বা হস্তমৈথুনের সময় শরীর থেকে বীর্য নির্গত হওয়া একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক, স্বয়ংক্রিয় এবং সুস্থ জৈবিক প্রক্রিয়া। মানুষের স্নায়ুতন্ত্র, হরমোন এবং প্রজননতন্ত্রের নিখুঁত সমন্বয়ের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞান ও মানব শারীরবিদ্যা (Human Anatomy) অনুযায়ী কীভাবে ঘটে এই জৈবিক ক্রিয়া, নিচে তার ধাপে ধাপে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।
আরও পড়ুনঃ কোথায় পাচ্ছে কলকাতার মানুষ এত টাকা? কম বার্ষিক আয়েও বাজার ধরে রেখেছে কলকাতা
হস্তমৈথুনের সময় বীর্যপাতের ৪টি বৈজ্ঞানিক ধাপ
শরীরবিজ্ঞানীদের মতে, স্পর্শ থেকে বীর্যপাত পর্যন্ত সমগ্র প্রক্রিয়াটি মূলত চারটি প্রধান ধাপে কাজ করে:
| ধাপের নাম | শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া ও ব্যাখ্যা |
| ১. উদ্দীপনা ও মস্তিষ্কের সংকেত | হস্তমৈথুনের সময় পুরুষাঙ্গের সংবেদনশীল স্নায়ুপ্রান্ত স্পাইনাল কর্ড বা মেরুদণ্ডের মাধ্যমে মস্তিষ্কে বার্তা পাঠায়। মস্তিষ্ক এই বার্তায় সাড়া দিয়ে ওই অঞ্চলে রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে লিঙ্গ দৃঢ় ও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। |
| ২. তরল নিঃসরণ ও বীর্য প্রস্তুতকরণ | উদ্দীপনা বাড়ার সাথে সাথে অণ্ডকোষে (Testicles) জমে থাকা শুক্রাণু ‘ভাস দেফারেন্স’ নালীর মাধ্যমে ওপরে উঠে আসে। একই সময়ে প্রস্টেট গ্রন্থি এবং সেমিনাল ভেসিকল থেকে পুষ্টিকর তরল নিঃসৃত হয়ে শুক্রাণুর সঙ্গে মিশে বীর্য (Semen) তৈরি করে। |
| ৩. অর্গাজম ও অনৈচ্ছিক রিফ্লেক্স | যৌন উদ্দীপনা যখন চরম সীমায় পৌঁছায়, তখন শরীর চরম যৌন আনন্দ বা ‘অর্গাজম’ অনুভব করে। এই মুহূর্তে মস্তিষ্ক ও পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে দ্রুত স্নায়বিক সংকেত ও হরমোন নিঃসৃত হয়ে শরীরে একটি স্বয়ংক্রিয় ‘রিফ্লেক্স অ্যাকশন’ তৈরি করে। |
| ৪. পেশির সংকোচন ও স্পন্দন | চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রস্টেট, সেমিনাল ভেসিকল এবং মূত্রনালীর চারপাশের পেলভিক ফ্লোর পেশিগুলি (Pelvic Floor Muscles) নির্দিষ্ট ছন্দে দ্রুত সংকুচিত হতে থাকে। এই তীব্র পেশিগত চাপের ফলেই জমা হওয়া বীর্য মূত্রনালী দিয়ে সজোড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। |
আরও পড়ুনঃ ২৮৬ দিন সমুদ্রে থাকার পর থাইল্যান্ডে মার্কিন নৌসেনাদের ‘বেপরোয়া’ বিতর্কিত নৈশজীবনের তাণ্ডব; উত্তপ্ত পাটায়া, চাঙ্গা পাটায়ার পর্যটন অর্থনীতি!
বিশেষজ্ঞদের মতামত
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, হস্তমৈথুন বা যৌন উদ্দীপনার শেষ সীমায় পৌঁছে বীর্যপাত হওয়া শরীরের কোনো অস্বাভাবিকতা নয়, বরং এটি একটি স্বয়ংক্রিয় পেশিগত ও স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া (Involuntary Muscle Reflex)। এটি প্রজননতন্ত্রের সক্রিয়তা এবং শারীরিক সুস্থতারই স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ।


