সন্তানধারণে জটিলতা দেখা দিলে সমাজে সাধারণত প্রথমেই নারীদের কাঠগড়ায় তোলা হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, বন্ধ্যাত্বের কারণ সমপরিমাণে পুরুষের শরীরেও থাকতে পারে। যৌনইচ্ছা এবং অঙ্গের উত্থান সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও কেবল বীর্যপাতজনিত জটিলতার কারণে সন্তানধারণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ নজর কাড়ছে পশ্চিমবঙ্গ; তরুণদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ
বীর্যপাতজনিত প্রধান তিনটি সমস্যা
-
বিলম্বিত বীর্যপাত (Delayed Ejaculation): যৌনমিলনের সময় অস্বাভাবিক অতিরিক্ত সময় লাগা বা অনেক ক্ষেত্রে একেবারেই বীর্যপাত না হওয়া।
-
রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশন (Retrograde Ejaculation): চরম মুহূর্তে বীর্য বাইরে নির্গত না হয়ে বিপরীত দিকে মূত্রথলিতে (Bladder) প্রবেশ করে।
-
অ্যানইজাকুলেশন (Anejaculation): বীর্য সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকা বা একেবারেই নিঃসৃত না হওয়া।
সমস্যার নেপথ্যে প্রধান কারণসমূহ
-
শারীরিক ও স্নায়বিক সমস্যা: অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস স্নায়ুর ক্ষতি করে। এছাড়া প্রস্টেট, পেলভিস বা মূত্রথলির অস্ত্রোপচারের ফলেও সংশ্লিষ্ট স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
-
হরমোন ও ওষুধের প্রভাব: শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং মানসিক চাপ বা উচ্চ রক্তচাপের কিছু ওষুধের প্রভাবে এই সমস্যা তৈরি হয়।
-
মানসিক চাপ: সন্তানধারণের নির্দিষ্ট সময় ধরে (Ovulation window) সঙ্গম করার বাড়তি মানসিক চাপ এবং যৌনক্ষমতা নিয়ে দ্বিধা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
আরও পড়ুনঃ তছনছ ১ থেকে ৫ নম্বর স্নানের ঘাট; গভীর নিম্নচাপ ও ভরা কটালে গঙ্গাসাগরে তীব্র ধস! কপিল মুনির আশ্রমের কী হবে?
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পদ্ধতি
-
সিমেন অ্যানালিসিস (Semen Analysis): বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা, গঠন ও গতিশীলতা জানার প্রাথমিক ও প্রধান পরীক্ষা।
-
ইউরিন টেস্ট: রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশনের সন্দেহ থাকলে বীর্যপাতের পর মূত্র পরীক্ষা করে দেখা হয় সেখানে শুক্রাণু আটকে আছে কি না।
-
সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি (ART): প্রাকৃতিক উপায়ে বীর্যপাত না হলেও আধুনিক চিকিৎসায় টিসিই (TSE) বা বিশেষ পদ্ধতিতে শুক্রাণু সংগ্রহ করে IUI বা IVF-এর মাধ্যমে সন্তানধারণ সম্ভব।
সন্তানধারণে বিলম্ব হলে সামাজিক ভয় ও সংকোচ কাটিয়ে দম্পতিদের একই সঙ্গে ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ সঠিক সময়ে সমস্যা ধরা পড়লে অধিকাংশ বীর্যপাতজনিত জটিলতারই আধুনিক চিকিৎসা সম্ভব।


