দেশজুড়ে সামগ্রিক এইচআইভি (HIV) সংক্রমণের হার নিম্নমুখী হলেও, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণ-তরুণী ও উঠতি বয়সিদের মধ্যে নতুন করে এইচআইভি ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজ্য স্টেট এইডস কন্ট্রোল সোসাইটি (SACS) এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তথ্যানুযায়ী, সচেতনতার অভাব, আধুনিক জীবনধারা এবং অনিরাপদ অভ্যাসের কারণে পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ৫ মাসে রেকর্ড ১.৯৫ লাখ ব্লকিং নির্দেশ! অনলাইন অপপ্রচার ও ডিপফেক রুখতে কড়া নজরদারি
তরুণদের মধ্যে সংক্রমণের প্রধান কারণসমূহ
-
ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ: রাজ্যজুড়ে তরুণদের একাংশের মধ্যে সিরিঞ্জ ভাগাভাগি করে ইনজেকটেবল ড্রাগস (IDU) গ্রহণের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। একটিমাত্র সংক্রামিত সিরিঞ্জ ব্যবহারের মাধ্যমে একাধিক তরুণের শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস।
-
নিরাপদ যৌন অভ্যাসের অভাব: অনলাইন ডেটিং অ্যাপের আধিক্য ও সঠিক যৌন শিক্ষার অভাবে সুরক্ষাবিহীন যৌন মিলনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
-
সামাজিক সংকোচ ও পরীক্ষা না করানো: কুসংস্কার ও লোকলজ্জার ভয়ে তরুণরা লক্ষণ থাকলেও সহজে প্রাথমিক এইচআইভি পরীক্ষা (ICTC) করাতে চান না, যা ভাইরাসের সুপ্ত বিস্তারে মদত দিচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ সাতসকালে শহর কলকাতায় বিপর্যয়! জোড়াবাগান ব্রজদুলাল স্ট্রিটে ভেঙে পড়ল তিনতলা বাড়ি একাংশ; মৃত্যু একজনের
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও উদ্যোগ
-
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যায়লে নজর: স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ‘রেড রিবন ক্লাব’ (Red Ribbon Club)-এর মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচার চালাচ্ছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।
-
ফ্রি কাউন্সেলিং ও টেস্টিং: ব্লক ও জেলা স্তরে আইসিটিসি (ICTC) কেন্দ্রগুলিতে বিনামূল্যে গোপনীয়তা বজায় রেখে রক্তের পরীক্ষা ও কাউন্সেলিংয়ের বিশেষ পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
-
বিনামূল্যে অ্যান্টি-রেট্রোভাইরাল থেরাপি (ART): এইচআইভি পজিটিভ সনাক্ত হলে তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে বিনামূল্যে এআরটি (ART) চিকিৎসার আওতায় আনা হচ্ছে, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র সরকারি প্রচার নয়—এইচআইভি নিয়ে অনাবশ্যক ট্যাবু বা সামাজিক ভয় ভেঙে তরুণদের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং সময়মতো রক্ত পরীক্ষাই পারে এই ঝুঁকি প্রতিরোধ করতে।


