লাইফস্টাইল ও সোশাল মিডিয়া ডেস্ক:
ডেটে যাওয়ার আগে স্নান করা, সুন্দর সাজগোজ কিংবা পছন্দের সুবাস বা ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করাকেই এতকাল স্বাভাবিক সৌজন্য বলে ধরা হতো। তবে এই প্রচলিত রীতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জন্ম নিয়েছে এক নতুন ও বিতর্কিত ট্রেন্ড—’ফেরোমোন-ম্যাক্সিং’ (Pheromone-maxxing)।
আরও পড়ুনঃ ২০৩০-এর অপেক্ষা নয়, ৪ বছর আগেই নীলকুরিঞ্জির নীলে সাজছে কেরলের পাহাড়
নিজেকে অন্য মানুষের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে কৃত্রিম সুবাস বা ডিওডোরেন্ট এড়িয়ে শরীরের স্বাভাবিক গন্ধকেই তীব্র করে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এই ট্রেন্ডে। এমনকি ডেটের আগে স্নান না করা কিংবা আগের দিনের ঘামে ভেজা পোশাক পরার মতো উদ্ভট পরামর্শও ছড়ানো হচ্ছে নেটপাড়ায়।
কী এই ‘ফেরোমোন-ম্যাক্সিং’? বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ও মূল ধারণা
সোশ্যাল মিডিয়ার ‘ম্যাক্সিং’ সংস্কৃতির অংশ হিসেবে উঠে আসা এই ধারার মূল তত্ত্ব ও বাস্তব চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় ও ক্ষেত্র | দাবি ও মূল ধারণা | বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক বাস্তবতা |
| ট্রেন্ডের মূল দাবি | মানবদেহের স্বাভাবিক গন্ধে এমন রাসায়নিক সংকেত থাকে যা অন্যকে আকর্ষণ করে। তাই সাবান বা পারফিউম দিয়ে তা ঢাকা উচিত নয়। | বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণের অভাব: প্রাণীদের ক্ষেত্রে ‘ফেরোমোন’ কাজ করলেও মানুষের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ‘হিউম্যান সেক্স ফেরোমোন’-এর অস্তিত্ব এখনও প্রমাণিত নয়। |
| চরম বিতর্কিত দিক | অনলাইন ফোরামে স্নান না করা, ঘাম জমিয়ে রাখা এমনকি মূত্রপানের মতো চরম ও অস্বাস্থ্যকর দাবিও তুলে ধরা হচ্ছে। | ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধির ঝুঁকি: কৃত্রিমভাবে ঘামের দুর্গন্ধ তৈরি করা আর স্বাভাবিক শারীরিক গন্ধ এক বিষয় নয়। গবেষণায় এর উল্টো প্রভাবের ইঙ্গিতই মিলেছে। |
আরও পড়ুনঃ রেজিনগরে কাফি, নন্দীগ্রামে মিলন; হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে প্রার্থী ঘোষণা কংগ্রেসের
তরুণ প্রজন্মের তীব্র প্রতিক্রিয়া
সোশ্যাল মিডিয়ার এই তথাকথিত ‘ডেটিং হ্যাক’-কে একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না ভারতের তরুণ সমাজ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যুবপ্রজন্মের প্রতিক্রিয়া:
-
মৌলিক পরিচ্ছন্নতা ও স্বাচ্ছন্দ্য (দিল্লি ও বেঙ্গালুরু): দিল্লির তরুণী অদিতি ও রিয়া মেহতার মতে, প্রথম ডেটে ‘বেসিক হাইজিন’ বা মৌলিক পরিচ্ছন্নতা কোনোভাবেই বাদ দেওয়া যায় না। স্বাভাবিক গন্ধ পছন্দ হওয়া আর ইচ্ছাকৃত নোংরা থাকা দুটো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। বেঙ্গালুরুর অনন্যার মতে, সোশ্যাল মিডিয়া জীবনযাত্রার প্রতিটি সাধারণ অভ্যাসকে জোর করে ‘হ্যাক’-এ পরিণত করছে।
-
‘ইক’ (Ick) ফ্যাক্টর (চণ্ডীগড়): চণ্ডীগড়ের সিমরন ও মীরার বক্তব্য স্পষ্ট—পরিচিত কারও স্বাভাবিক শারীরিক উপস্থিতি ভালো লাগতেই পারে, কিন্তু ডেটে এসে ইচ্ছাকৃত ঘামের দুর্গন্ধ ছড়ানো প্রতিপক্ষের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও বিরক্তিজনক (Direct ‘Ick’)।
‘ফেরোমোন-ম্যাক্সিং’-এর পেছনে মানুষের শারীরিক সুবাস সংক্রান্ত কিছুটা প্রাথমিক ধারণা থাকলেও, একে আকর্ষণের নিশ্চিত উপায় হিসেবে দেখার কোনো বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তি নেই। বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষ উভয় শিবিরেরই মত, ভালোবাসার রসায়ন যতই জটিল হোক না কেন, ডেটে গিয়ে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বিসর্জন দিয়ে কাউকে অস্বস্তিতে ফেলার কোনো যৌক্তিকতা নেই।


