বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে গ্রেফতার করল সিআইডি (CID)। বৃহস্পতিবার দুপুরে কালীঘাটে অভিষেকের বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। সুপ্রিম কোর্ট সুমিতের আগাম জামিনের আবেদন ও আইনি রক্ষাকবচ খারিজ করে দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে সিআইডি আধিকারিকেরা সেখানে পৌঁছান এবং তাঁকে হেফাজতে নেন। গ্রেফতারের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভবানী ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে চিকিৎসার কারণে বিদেশে অবস্থান করছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ ‘শারদোৎসব নয়, দুর্গাপূজা লিখতে হবে’; কমিউনিস্টদের স্টল বাতিলের তোপ শুভেন্দুর
গ্রেফতারির ঘটনা ও কালীঘাটের দৃশ্যপট
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডি প্রতিনিধিদল কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছালে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | ঘটনাস্থল ও আইনি প্রক্রিয়ার বিবরণ |
| নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে বচসা | সিআইডি আধিকারিকরা ভবনে প্রবেশ করতে গেলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সামান্য বাদানুবাদ ও ধস্তাধস্তি হয়। |
| হেফাজতে গ্রহণ | গেট খোলার পর পরণে সাদা শার্ট ও কালো ট্রাউজার্স পরা সুমিতকে সিআইডি ঘেরাও করে এবং শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করে গাড়িতে তোলে। |
| মামলার মূল অভিযোগ | পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে জমি কেনাবেচা ও প্রায় ১৫ কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের দুর্নীতি মামলায় সুমিত অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। |
আরও পড়ুনঃ মুখে চওড়া হাসি বাংলার তাঁত শিল্পীদের! পুজোর মুখে তন্তুজের মেগা উদ্যোগ
সুপ্রিম কোর্টের শুনানি ও রক্ষাকবচ বাতিলের কারণ
কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর শীর্ষ আদালতে গিয়েছিলেন সুমিত। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে টানা দুই দিন শুনানির পর আদালত তাঁর অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নেয়:
-
আদালতের পর্যবেক্ষণ: শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানায়, “সুমিত রায়কে পর্যাপ্ত সময় এবং সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও তিনি তদন্তে রাজ্য সংস্থাকে সঠিকভাবে সহযোগিতা করেননি।”
-
অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার সন্দেহजनक লেনদেন: আদালতের কাছে তদন্তকারীদের পক্ষে জানানো হয়, গত জুন মাসেই সুমিতের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭১ লক্ষ টাকা জমা পড়েছিল। সব মিলিয়ে তাঁর অ্যাকাউন্টে ১৫ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের নথি সিআইডির হাতে এসেছে।
-
সহযোগিতার অভাব: সুমিত ও রাজ্য—উভয় পক্ষের জমা দেওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর শীর্ষ আদালত জানায়, অভিযুক্ত তদন্তে অসহযোগিতা করায় তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আইনি প্রয়োজন রয়েছে।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পর সুমিত রায়কে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা রইল না। এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে জোর রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।



