বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, পূর্বস্থলী:
শারদোৎসবের ঠিক মুখে পূর্ব বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পে কিছুটা হলেও আশার আলো। পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের শ্রীরামপুর তাঁত কাপড়ের হাটে সরাসরি তাঁতিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ শাড়ি ও তাঁতের কাপড় কিনল রাজ্য সরকারের বস্ত্র বিপণন সংস্থা ‘তন্তুজ’। শ্রীরামপুর, ধাত্রীগ্রাম ও সমুদ্রগড় এলাকার শতাধিক তাঁতশিল্পীর কাছ থেকে বস্ত্র সংগ্রহ করেন তন্তুজের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
পুজোর কেনাকাটার মরশুমে সরকারি স্তরে সরাসরি বাজার পাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে মন্দার মুখে থাকা স্থানীয় হস্তচালিত তাঁতশিল্পীদের মুখে হাসি ফুটেছে।
আরও পড়ুনঃ জগদ্ধাত্রীর শহরে প্যারিসের ছোঁয়া! জগদ্ধাত্রী পুজোর আগেই সাজসাজ রব চন্দননগরে
কাপড় বাছাই প্রক্রিয়া ও তন্তুজের মানদণ্ড
তন্তুজের আধিকারিকদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে অত্যন্ত নিখুঁত ও পেশাদার উপায়ে এই কাপড় কেনার কাজ সম্পন্ন করা হয়:
| পরীক্ষার বিষয় | তন্তুজের বিশেষ মানদণ্ড |
| গুণগত মান (Quality Check) | সূতোর মান, বুনন শৈলী এবং টেকসই ক্ষমতা খতিয়ে দেখা হয়েছে। |
| মাপ ও পরিমাপ | কাপড়ের নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ আন্তর্জাতিক ও সরকারি মানদণ্ড অনুযায়ী সঠিক রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। |
| সরাসরি মূল্য পরিশোধ | কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়েদের স্থান না দিয়ে সরাসরি তাঁতিদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে প্রস্তুত সামগ্রী কেনা হয়। |
আরও পড়ুনঃ সজল, চোর বাগানের পর এবার উত্তর কলকতার কাশী বোস লেন, ১ লক্ষ টাকার সরকারি অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, ১০০% বিদ্যুৎ বিল…
তাঁতিদের ক্ষোভ-আক্ষেপ ও সরকারি আশ্বাস
সরাসরি কাপড় বিক্রি করতে পেরে হস্তশিল্পীরা খুশি হলেও, বর্তমান সুতো ও কাঁচামালের ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ে একাধিক আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তাঁতশিল্পীরা:
-
হ্যান্ডলুম শিল্পের দুরবস্থা: তাঁতিদের দাবি, বাজার মন্দা হওয়ায় হস্তচালিত তাঁতশিল্পের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। সরকারি অনুদান ও সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
-
সংগ্রহের দাম বৃদ্ধির দাবি: সুতোর দামের তুলনায় তন্তুজ যে দামে কাপড় কিনছে, সেই ক্রয়মূল্য (Procurement Price) আরও কিছুটা বাড়ানো হলে তাঁতি পরিবারগুলি আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে।
-
জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বার্তা: স্থানীয় বিধায়ক ও প্রশাসনিক প্রতিনিধিরা তাঁতিদের আশ্বস্ত করে জানান, রাজ্য সরকার তাঁতশিল্পীদের স্বার্থ সুরক্ষায় অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাঁতিরা যাতে তাঁদের শ্রম ও মেধার সঠিক মূল্য পান, তা নিয়ে সরকারি পর্যায়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। অতি দ্রুতই এই শিল্পে আবার স্থায়ী সুদিন ফিরবে বলে আশাপ্রকাশ করা হয়।
সব মিলিয়ে, উৎসবের আগে তন্তুজের এই প্রত্যক্ষ উদ্যোগ সংকটময় হ্যান্ডলুম শিল্পে এক নতুন সঞ্জীবিনী ফুঁকে দিল বলেই মনে করছে স্থানীয় বিশেষজ্ঞ মহল।



