তন্ত্রশাস্ত্র ও শাক্ত ঐতিহ্য অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের অমাবস্যা তিথি ‘কৌশিকী অমাবস্যা’ নামে পরিচিত। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে চন্দ্রের কক্ষপথে ঘোরার বিশেষ জ্যামিতিক অবস্থানের কারণে অমাবস্যা হলেও, ধর্মীয় বিশ্বাসে এটি অশুভ শক্তি বিনাশ ও আধ্যাত্মিক সিদ্ধিলাভের এক মহাতিথি। অসুরদলনী দেবী কৌশিকীর আবির্ভাব এবং মহাসাধক বামাক্ষ্যাপার সিদ্ধিলাভের ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে প্রতি বছর এই তিথিতে বীরভূমের তারাপীঠ মহাশ্মশানসহ দেশ-বিদেশের শাক্তপীঠগুলিতে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম ঘটে।
পৌরাণিক প্রেক্ষাপট ও তারাপীঠের মাহাত্ম্য
-
দেবী কৌশিকীর আবির্ভাব: শাস্ত্র অনুযায়ী, ব্রহ্মা থেকে প্রাপ্ত বিশেষ বরবলে বলীয়ান হয়ে অসুররাজ শুম্ভ ও নিশুম্ভ স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল জুড়ে অত্যাচার শুরু করে। দেবগণের প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে স্বয়ং দেবী পার্বতী নিজের দেহকোষ থেকে এক ভয়ংকর তেজস্বী দেবীর সৃষ্টি করেন, যিনি ‘দেবী কৌশিকী’ নামে খ্যাতি পান। এই কৌশিকী দেবীই শুম্ভ-নিশুম্ভকে বধ করে ত্রিলোক উদ্ধার করেছিলেন।
-
সাধক বামাক্ষ্যাপা ও তারা মা: ১২৭৪ বঙ্গাব্দের এই কৌশিকী অমাবস্যা তিথিতেই তারাপীঠ মহাশ্মশানের শ্বেতশিমূল বৃক্ষতলে কঠোর সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেছিলেন পরম সাধক বামাক্ষ্যাপা। ধ্যানমগ্ন সাধক এই বিশেষ সন্ধিক্ষণে দশ মহাবিদ্যার দ্বিতীয় মহাবিদ্যা মা তারার সাকার দর্শন পেয়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ আয়ু ৭ বছর, খুলল চিকিৎসার নতুন দিশা; গবেষণাগারে কৃত্রিম মগজ বানিয়ে যুগান্তকারী সাফল্য
কৌশিকী অমাবস্যার সময়সূচি ও নিশিপালন (১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর)
চলতি বছর বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পালিত হতে চলেছে কৌশিকী অমাবস্যা। ‘বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত’ ও ‘গুপ্তপ্রেস’—উভয় পঞ্জিকা অনুযায়ী তিথির সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো:
| পঞ্জিকার নাম | অমাবস্যা তিথি আরম্ভ (১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার) | অমাবস্যা তিথি সমাপ্তি (১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার) | নিশিপালন |
| বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা |
২৪ ভাদ্র / ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ৩৫ মিনিট থেকে |
২৫ ভাদ্র / ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৫৭ মিনিটে |
২৪ ভাদ্র (১০ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার রাতে নিশিপালন। |
| গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা |
২৩ ভাদ্র / ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ৯ মিনিট ১৩ সেকেন্ডে |
২৪ ভাদ্র / ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৪৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে |
২৩ ভাদ্র (১০ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার রাতে নিশিপালন। |
তারা মায়ের কৃপা ও বিশেষ সাধনার উদ্দেশ্যে এই তিথিতে তারাপীঠ মহাশ্মশান ও মন্দির চত্বরে বিশেষ যজ্ঞ, কঙ্কালীতলা, কালীঘাটসহ বিভিন্ন শক্তিপীঠে বিশেষ পুজো ও অহোরাত্র ভক্ত সমাগম ঘটে।


