বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
‘গেরুয়া সম্মান মিছিল’-এর পর এবার রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনেও বামপন্থী ও অতি-বাম রাজনৈতিক মতাদর্শকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বিধানসভার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্গাপূজা মণ্ডপ চত্বরে বামপন্থীদের ঐতিহ্যবাহী বইয়ের স্টল বসা নিয়ে সরব হয়ে তিনি রাজ্যজুড়ে পূজা কমিটিগুলির কাছে এক বিশেষ আহ্বান জানান। তাঁর সাফ কথা, মণ্ডপের স্টলের ব্যানারে ‘শারদোৎসব’ লেখা চলবে না; স্পষ্ট করে ‘দুর্গাপূজা’ না লিখলে তথাকথিত কমিউনিস্টদের একটি স্টলও যেন বসতে না দেওয়া হয়।
একই সাথে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ বামপন্থী মনোভাবাপন্ন অধ্যাপকদের বিরুদ্ধে সনাতনী ভাবাবেগে আঘাত হানারও গুরুতর অভিযোগ তোলেন বিরোধী দলনেতা।
আরও পড়ুনঃ সব জল্পনার অবসান, পূজা হবে নিজের পুরনো মেজাজেই, আজ থেকেই শুরু আয়োজন
বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা ও বক্তব্যের নির্যাস
বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশনে আলোচনা চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বামপন্থীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন:
| বিষয়টি | মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ও দাবি |
| বইয়ের স্টল ও ‘শারদোৎসব’ বিতর্ক | “সনাতন ধর্মটাকে আপনারা কেবল কালচারাল মনে করেন। দুর্গাপূজা বলেন না, বলেন ‘শারদোৎসব’। সব পুজো কমিটিকে বলে দেব, দুর্গাপূজা না লিখে শারোদৎসব লিখলে তথাকথিত কমিউনিস্টদের একটা স্টলও করতে দেবেন না।” |
| সনাতনীদের ওপর টার্গেট | “কপালে টিপ পরলে, মাথায় শিখা রাখলে বা গলায় তুলসীর মালা পরলে এক শ্রেণির মানুষ টার্গেট করেন। যে যার ধর্ম পালন করেন, কেউ তো বাধা দেয় না!” |
| উগ্র বামপন্থা ও কিষেনজি | “ক্যাম্পাস বা বাইরে কোনোভাবেই কিষেনজির নাম লিখতে দেব না।” |
আরও পড়ুনঃ মুখে চওড়া হাসি বাংলার তাঁত শিল্পীদের! পুজোর মুখে তন্তুজের মেগা উদ্যোগ
বিশ্ববিদ্যালয় বিল ও শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির তোপ
বিধানসভায় কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত নয়া বিলের সমর্থনে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দলনেতা অভিযোগ করেন, শিক্ষার আঙিনায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণ বরদাস্ত করা হবে না।
তিনি দাবি করেন, “এক শ্রেণির শিক্ষক ও অধ্যাপক তথাকথিত বামপন্থী জামা গায়ে লাগিয়ে দেশ ও রাজ্যকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন এবং ক্রমাগত সনাতনীদের আক্রমণ করছেন। শিক্ষাঙ্গনে এই ধরনের আচরণ রুখতেই কঠোর আইনের প্রয়োজন ছিল।”
শারদোৎসবের মুখে বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে এবং বিভিন্ন পূজা কমিটিগুলির অন্দরে নতুন আলোচনার জন্ম দিল।


