কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়ি:
“ভগবানকে পাওয়া যায় বনে, মনে এবং কোণে”—এই পরম বিশ্বাসকেই জীবনের মূল মন্ত্র মেনে নিয়েছেন শিলিগুড়ির বাসিন্দা অরুনা ভাদুড়ী। স্বামী সুকুমার ভাদুড়ীর সহায়তায় কোনো ঢাকঢোল ও জাকজমক ছাড়াই দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তিনি ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একে একে সংগ্রহ করেছেন নানা রূপের ও নানা আঙ্গিকের মোট ৪৭টি লাড্ডু গোপালের বিগ্রহ। জন্মাষ্টমীর পুণ্য তিথিতে এই প্রচারবিমুখ ভক্তের ঘরেই এখন যেন এক টুকরো বৃন্দাবন নেমে এসেছে।
আরও পড়ুনঃ নিশীথকালে গোপালের পূজা; আজ দেশজুড়ে সাড়ম্বরে উদযাপিত হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী
১৫ বছরের ভক্তি ও ৪৭টি গোপাল বিগ্রহ
কোনো লোকদেখানো আড়ম্বর নয়, অরুনাদেবীর পরম ভালোবাসায় শিলিগুড়ির এই সাধারণ গৃহকোণই হয়ে উঠেছে অনন্য এক শ্রীকৃষ্ণধাম:
-
দেশজুড়ে বিগ্রহ সংগ্রহ: গত ১৫ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন রাজ্য, তীর্থক্ষেত্র ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ঘুরে ঘুরে তিনি এই ৪৭টি ভিন্ন রূপের গোপাল বিগ্রহ সংগ্রহ ও প্রতিষ্ঠা করেছেন।
-
প্রচারহীন নিভৃত সাধনা: সামাজিক মাধ্যম বা লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতেই পছন্দ করেন তিনি। অরুনাদেবীর কথায়, ঈশ্বর কোনো প্রদর্শনের বস্তু নন; তিনি থাকেন বন, মন আর গৃহের শান্ত কোণেই।
আরও পড়ুনঃ শ্রীকৃষ্ণের আদর্শে সমৃদ্ধি ও ঐক্যের বার্তা; জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি
আড়ম্বরহীন বাৎসল্য ও জন্মাষ্টমী উৎসব
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে প্রতি বছরই তাঁর বাড়িতে দেখা যায় এক অপূর্ব চিত্র:
| বিষয় | বিশেষত্ব ও উদযাপনের রীতি |
| নানা সাজে ৪৭টি বিগ্রহ | প্রতিটি গোপাল বিগ্রহকে পরম বাৎসলে ধোয়ানো, নতুন পোশাক, বাঁশি ও অলঙ্কারে সাজিয়ে তোলেন তিনি নিজেই। |
| জন্মাষ্টমীর আয়োজন | তিথি অনুযায়ী মধ্যরাতে ৪৭টি গোপালের একসঙ্গে বিশেষ ভোগ, মাখন ও পুষ্পাঞ্জলির আয়োজন করা হয়। |
| ভক্তির বার্তা | বাহ্যিক আড়ম্বরের চেয়ে অন্তরের ভক্তিই যে কৃপা লাভের আসল পথ, তা প্রতিদিন নিজের নিরবচ্ছিন্ন সেবার মাধ্যমে প্রমাণ করে চলেছেন এই বয়োজ্যেষ্ঠা ভক্ত। |
জন্মাষ্টমীর দিনে লোকচক্ষুর অন্তরালে অরুনা ভাদুড়ীর ঘরের ৪৭টি গোপাল সেবার এই কাহিনী স্থানীয়ভাবে এক পরম ভক্তি ও শ্রদ্ধার আবহাওয়া তৈরি করেছে।


