কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
রক্ত বিক্রির দুর্নীতির খবরের পরই এবার সামনে এলো ময়নাতদন্তের রিপোর্টের বিনিময়ে ঘুষ নেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ। দুর্নীতি দমন শাখার (Anti-Corruption Branch) ফাঁদে পা দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার হাতেনাতে গ্রেফতার হলেন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের এক সরকারি কর্মী। কেমিক্যাল দেওয়া ৩ হাজার টাকা হাতে নিতেই রাসায়নিক জলে হাত রাঙা হয়ে যায় তাঁর। হাসপাতালে এমন ‘সিন্ডিকেট’ সক্রিয় থাকার কথা স্বীকার করে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন হাসপাতালের সুপার নিজেই এবং অভিযান চালিয়ে যাওয়ার আর্জি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ মিলে গেল বঙ্গবার্তার পূর্বাভাস, আত্মপ্রকাশের চার মাসেই সিজেপিতে আড়াআড়ি ভাঙন
দুর্নীতি দমন শাখার অভিযান ও গ্রেফতারি
দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের ফরেনসিক বিভাগের বিরুদ্ধে রিপোর্ট বা মৃতদেহ সংরক্ষণের নামে টাকা চাওয়ার মৌখিক অভিযোগ উঠছিল। সম্প্রতি এক পথদুর্ঘটনায় মৃত ব্যক্তির পরিবার থেকে টাকা চাওয়ার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পদক্ষেপ শুরু হয়:
-
নির্দিষ্ট অভিযোগ ও ফাঁদ: এক মৃত ব্যক্তির আত্মীয়ের কাছে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য ৩,০০০ টাকা দাবি করা হলে, তিনি দুর্নীতি দমন শাখার টোল-ফ্রি নম্বরে অভিযোগ জানান।
-
হাতেনাতে ধরা: পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযোগকারী ফিনোফথ্যালিন রাসায়নিক মাখানো নোট ওই কর্মীকে দেন। টাকা হাতে নেওয়া মাত্রই দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা তাকে আটক করেন এবং কেমিক্যাল টেস্টে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুনঃ ফের কাঁপল হিমালয়; নেপাল বিপর্যয়ের এক সপ্তাহের মধ্যে তিব্বতে আবার ভূমিকম্প
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী তদন্ত
এই ঘটনার পর ফরেনসিক বিভাগের একাধিক কর্মীকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন তদন্তকারীরা:
| দিক | সুপার কৌশিক ঈশরের মন্তব্য ও অবস্থান |
| অভিযানকে সাধুবাদ | দুর্নীতি দমন শাখার এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে সুপার বলেন, “আমি চাই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে এই ধরণের তল্লাশি অভিযান নিয়মিত চলতে থাকুক।” |
| সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব | সুপার স্বীকার করেন যে ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে শুরু করে একাধিক বিভাগে দুর্নীতি চক্র সক্রিয়। দায়িত্বে আসার পর অনেককে শো-কজ করলেও সন্তোষজনক জবাব মেলেনি। |
পাঁশকুড়া সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে রক্ত বিক্রির দুর্নীতির পর উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের এই ঘটনা রাজ্যজুড়ে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা ও স্বচ্ছতা নিয়ে ফের বড় প্রশ্ন তুলে দিল।


