Tuesday, 8 September, 2026
8 September
Homeদক্ষিণবঙ্গDurga Puja: হাজার বছরের সুপ্রাচীন ঐতিহ্য; তোপধ্বনি আর কামানের গর্জনে বাঁকুড়ার ঐতিহাসিক...

Durga Puja: হাজার বছরের সুপ্রাচীন ঐতিহ্য; তোপধ্বনি আর কামানের গর্জনে বাঁকুড়ার ঐতিহাসিক মল্ল রাজবাড়ির মা মৃন্ময়ীর মহাপুজো

কুলদেবী হিসেবে মৃন্ময়ী মা মল্ল রাজপরিবারের চালিকাশক্তি।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিবেদন, বাঁকুড়া:

বাঙালির দুর্গাপুজো বলতেই চার-পাঁচ দিনের আনন্দোৎসবকে বোঝায়, কিন্তু বাঁকুড়ার ঐতিহাসিক বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজবাড়ির মা মৃন্ময়ীর পুজোয় সেই হিসাব একবারে আলাদা। বাংলার অন্যতম সুপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই দুর্গাপুজো পালিত হয়ে আসছে প্রায় হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে। মল্ল রাজতন্ত্র এবং শৌর্য আজ ইতিহাস হলেও, রাজপরিবারের বংশধররা আজও সম্পূর্ণ শাস্ত্রীয় নিষ্ঠা ও রাজকীয় আভিজাত্য বজায় রেখে মা মৃন্ময়ীর মহাপুজো পরিচালনা করে আসছেন।

আরও পড়ুনঃ পুজোয় ১ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা শুভেন্দুর! করলেন আবেদনও, অষ্টমীতে মদ বিক্রি বন্ধ

স্বপ্নাদেশ থেকে সূচনা: মা মৃন্ময়ী ও পটপূজার অনন্য বৈশিষ্ট্য

৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে মল্লরাজ জগৎ মল্ল দেবী মৃন্ময়ীর সুনির্দিষ্ট স্বপ্নাদেশ পেয়ে বিষ্ণুপুরে এই সুপ্রাচীন মন্দির ও প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করেন। কুলদেবী হিসেবে মৃন্ময়ী মা মল্ল রাজপরিবারের চালিকাশক্তি।

  • অবাক করা মৃন্ময়ী প্রতিমা: দেবীর মূল মূর্তিটি গঙ্গার গাদ বা বিশেষ মাটি দিয়ে তৈরি। রাজবাড়ির এই মূল প্রতিমার কখনোই বিসর্জন হয় না; সারা বছর ধরে মন্দিরে তাঁর নিত্য আরাধনা চলে।

  • তিন পটের আগমন: দুর্গাপুজোর বিশেষ দিনগুলিতে দেবীর বিশেষ আরাধনার অংশ হিসেবে ‘বড় ঠাকুরানি’, ‘মেজ ঠাকুরানি’ ও ‘ছোট ঠাকুরানি’ নামক তিনটি সুপ্রাচীন চিত্রপট রাজবাড়ি থেকে রাজকীয় শোভাযাত্রা করে মূল মন্দিরে আনা হয়।

আরও পড়ুনঃ ফের গড়াতে পারে ভারত-বাংলাদেশ ট্রেনের চাকা; আগামী মাস থেকেই চালু

১৫ দিনের রাজকীয় আচার ও সন্ধিপুজোয় কামান দাগার শিহরণ

সাধারণ দুর্গাপুজোর চেয়ে মল্ল রাজবাড়ির আচারের ব্যাপ্তি ও সময়সীমা অনেকটাই স্বতন্ত্র:

আচারের বিষয় বৈশিষ্ট্য ও সুপ্রাচীন রীতি
১৫ দিনের দীর্ঘ সূচনা মহালয়ার আগেই, কৃষ্ণাষ্টমী বা ‘জিতা অষ্টমী’ (জিমূতবাহন অষ্টমী) তিথিতে তোপধ্বনির মাধ্যমে সূচনা হয় এই পুজোর। টানা ১৫ দিন ধরে চলে রাজকীয় আরাধনা।
কামান দাগার প্রথা মহাষ্টমী ও মহানবমীর সন্ধিক্ষণে তোপধ্বনি বা কামানের বিকট শব্দে সন্ধিপুজোর সূচনা হয়। অতীতে এই তোপধ্বনি শুনেই সমগ্র বিষ্ণুপুর ও মল্লভূমের অন্যান্য পুজোয় সন্ধিপুজোর সময় নির্ধারিত হতো।
বলিপ্রথা ও বিসর্জন প্রাচীনকালে প্রচলিত নরবলি বহু পূর্বে বিলুপ্ত হলেও এখনও ছাগবলির প্রথা বিদ্যমান। বিজয়া দশমীতে মূল প্রতিমা অপরিবর্তিত রেখে কেবল ঘট, নবপত্রিকা ও ছোট পটগুলি রাজকীয় মর্যাদায় বিষ্ণুপুরের রামবাঁধে বিসর্জন দেওয়া হয়।

আজও কামান দাগার সেই চেনা শব্দের অপেক্ষায় মুখিয়ে থাকেন সমগ্র বাঁকুড়াবাসী, যা মনে করিয়ে দেয় মল্লভূমের বীরত্ব ও ভক্তিময় ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল দিনগুলিকে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন