বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
উত্তরবঙ্গের ফরাক্কায় রেল দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মাটির দুলুনি অনুভূত হলো দক্ষিণবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায়। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS)-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১০টা ২৪ মিনিটে এই মৃদু ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৭। ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র বা উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। হঠাৎ এই কম্পনে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে ক্ষণিকের জন্য আতঙ্ক ছড়ায়।
ভূমিকম্পের অবস্থান ও ব্যাপ্তি
ভূবিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, কম্পনের অবস্থান ও স্থায়িত্ব ছিল নিম্নরূপ:
-
উৎপত্তিস্থল: মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান ও ফরাক্কার মধ্যবর্তী সীমান্ত এলাকা। স্থানটি কলকাতা থেকে ২৪১ কিমি, শিলিগুড়ি থেকে ২২৯ কিমি এবং ঝাড়খণ্ডের গিরিডি থেকে ১৭১ কিমি দূরে অবস্থিত।
-
কম্পনের স্থায়িত্ব: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কম্পনটি মাত্র ৪ থেকে ৫ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল।
-
প্রভাবিত এলাকা: রাত ১০টা ২৪ মিনিট নাগাদ ঘরের ভেতরে থাকা মানুষেরা মৃদু ঝাঁকুনি টের পান। মূল কম্পনের পর কোনো ‘আফটার শক’ (Aftershock) আসার ভয়ে বেশ কিছু মানুষ কিছুক্ষণ আতঙ্কে ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ হরমনপ্রীত কৌরের ঐতিহাসিক বিশ্বরেকর্ড; মহিলা এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত করে সেমিফাইনালে ভারত
ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
ভূমিকম্পের মাত্রা ও পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে প্রশাসনিক তথ্য:
| বিষয় | প্রশাসনিক ও সিসমোলজিক্যাল রিপোর্ট |
| ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহত | কম্পনের তীব্রতা কম থাকায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি, বাড়িঘরে ফাটল বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। |
| প্রশাসনিক তৎপরতা | রবিবার হওয়া সত্ত্বেও দুর্যোগ মোকাবিলা দফতর ও স্থানীয় ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা সমস্ত এলাকার বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। |
| সিসমোলজিক্যাল বার্তা | সিসমোলজি বিভাগ অনুযায়ী, ৩.০ থেকে ৩.৯ মাত্রার কম্পনকে ‘মৃদু’ (Minor) হিসেবে ধরা হয়। ৪.০-এর নিচে কম্পন থাকলে সাধারণত উদ্বেগের বড় কোনো কারণ থাকে না। |
কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতি না হওয়ায় অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন মুর্শিদাবাদ ও সংলগ্ন ঝাড়খণ্ড সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা।


