বিশেষ সাংস্কৃতিক প্রতিবেদন:
সঙ্গীতের নিজস্ব কোনো সীমানা বা ভূগোল হয় না—এই ধ্রুব সত্যকে তিনি আট দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রমাণ করে আসছেন। ক্লাসিক্যাল চিজ থেকে শুরু করে ক্লাসিক চাজ, বিয়াত নাচ, রোমান্টিক মেলোডি, বিচ্ছেদের করুণ সুর কিংবা ক্যাবারে—প্রতিটি ধারায় যার কণ্ঠের কারুকাজ সমান সাবলীল, তিনি সুরসাম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে। আজ তাঁর শুভ জন্মদিনে ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সঙ্গীত জগতে এক অগণিত ভক্তের বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জ্ঞাপন।
আটের দশকেও অমলিন সুরের জাদু
১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের এক সঙ্গীতপ্রেমী পরিবারে জন্ম নেওয়া আশা ভোঁসলে কেবল ভারত নয়, গোটা বিশ্বসঙ্গীতের মানচিত্রে এক ব্যতিক্রমী স্থান অধিকার করে রয়েছেন। দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনে ১২,০০০-এরও বেশি গান গেয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম নথিভুক্ত করেছেন এই মহীয়সী শিল্পী।
-
সুর বৈচিত্রের প্রতীক: বৈচিত্রের দিক থেকে তিনি অনন্য। ও পি নয়্যার, আর ডি বর্মন (পঞ্চম), শচীন দেব বর্মণের মতো কিংবদন্তি সুরকারদের হাত ধরে তাঁর গান ভারতীয় চলচ্চিত্রের গতিপথ বদলে দিয়েছিল।
-
বাংলা গানের সঙ্গে গভীর নাড়ির টান: হিন্দি ও মারাঠির পাশাপাশি বাংলা গানেও তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। ‘যেতে দাও আমায় ডেকো না’, ‘চোখে চোখে কথা বলো’, ‘হায় হায় রে প্রাণ যায় রে’ বা ‘সন্ধ্যা বেলায় তুমি আমি’—তাঁর গাওয়া একের পর এক বাংলা কালজয়ী গান আজও বাঙালির ঘরে ঘরে অনুরণিত হয়।
আরও পড়ুনঃ বাঘের আক্রমণে মর্মান্তিক পরিণতি, মৃত্যুর পরেও অঙ্গদানে অমর কুলতুলির মৎস্যজীবী আজিজ মোল্লা
বহুবিশ্বের সর্বজনীন সুরশিল্পী
বাংলা ও ভারতীয় আঞ্চলিক ভাষার সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সঙ্গীতের মঞ্চেও তাঁর পদচারণা ছিল সমান উজ্জ্বল:
| ক্ষেত্রের নাম | আন্তর্জাতিক ও ঐতিহাসিক অনন্যতা |
| পপ ও ফিউশন সঙ্গীত | পাশ্চাত্য ওয়েস্টার্ন পপ ও ফিউশন সঙ্গীতের সঙ্গে ভারতীয় শাস্ত্রীয় বা হালকা সুরের মেলবন্ধন ঘটাতে তিনি ছিলেন পথপ্রদর্শক। |
| আন্তর্জাতিক কোলাবোরেশন | আন্তর্জাতিক ব্যান্ড ‘বয় জজ’ (Boy George), ‘মাইকেল স্টাইপ’ এবং ওস্তাদ আলী আকবর খানের সঙ্গে তাঁর একাধিক আন্তর্জাতিক ফিউশন অ্যালবাম বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়েছে। |
| উপাধি ও সম্মাননা | ভারত সরকার কর্তৃক ২০০৮ সালে ‘পদ্মবিভূষণ’ এবং ২০০০ সালে দেশের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মাননা ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। |
তাঁর প্রতিটি গানের সুর, অভিব্যক্তির সূক্ষ্ম কাজ এবং কণ্ঠের তারুণ্য আজও নতুন প্রজন্মের গায়কদের অনুপ্রাণিত করে। এই বিশ্বনন্দিত সুরসাধকের জন্মদিনে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি সঙ্গীতপ্রেমীর একটাই প্রার্থনা—তিনি দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবনের অধিকারী হন এবং তাঁর কণ্ঠের সুরধারা চিরকাল আমাদের সমৃদ্ধ করতে থাকুক।


