Tuesday, 8 September, 2026
8 September
Homeউত্তরবঙ্গCPI(M): "ভয় IN ভরসা OUT"! জলপাইগুড়ির CPI(M)-এর সুবোধ সেন ভবনে বিজেপি আশ্রিত...

CPI(M): “ভয় IN ভরসা OUT”! জলপাইগুড়ির CPI(M)-এর সুবোধ সেন ভবনে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব

দুষ্কৃতীদের হামলায় সরাসরি আক্রান্ত ও জখম হয়েছেন দেবরাজ বর্মন, সোহিনী রায়, প্রভাকর সরকার, দিয়া সাহা, পূর্ণা দত্ত ভৌমিক এবং পঞ্চম ঘোষ।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি:

জলপাইগুড়িতে সিপিআই(এম)-এর জেলা দপ্তর ‘সুবোধ সেন ভবন’-এ গতকাল সোমবার গভীর রাতে লাঠিসোঁটা, মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র এবং কেরোসিন তেল নিয়ে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটলো। অভিযোগের তির সরাসরি স্থানীয় বিজেপি দুষ্কৃতী বাহিনীর দিকে। রাতের অন্ধকারে পার্টি অফিসের কাঁচের জানালা ভেঙে, পতাকাদণ্ড উপড়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। দুষ্কৃতীদের প্রতিহত করতে গিয়ে ইট-পাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন যুব ও ছাত্র নেতা-কর্মী।

এই কাপুরুষোচিত আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জলপাইগুড়ি শহরে বিশাল প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হওয়ার ডাক দিয়েছে বাম নেতৃত্ব।

আরও পড়ুনঃ  মমতার পথেই শুভেন্দু, শুধুমাত্র বিরোধী থাকাকালীন বিরোধিতা! বিদ্যুৎ বিলে ১০০% ছাড় কেন, CESC চুপ কেন? উঠছে প্রশ্ন

গভীর রাতের হামলা ও ছাত্র-যুবদের প্রতিরোধ

সোমবার রাত আনুমানিক ১০.৩০ নাগাদ সুবোধ সেন ভবনের সামনে চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা।

  • অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর: অফিসের কাঁচের জানালা ভাঙার পাশাপাশি দলীয় পতাকাদণ্ড ভেঙে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে আধপোড়া জাতীয় ও দলীয় পতাকা উদ্ধার করেন যুব নেতা দেবরাজ বর্মন।

  • হামলায় জখম নেতৃত্ব: গেটের সামনে উপস্থিত ছাত্র-যুব কর্মীদের ওপর লক্ষ্য করে লাগাতার ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। দুষ্কৃতীরা জোরপূর্বক ভবনের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন উপস্থিত সিপিআই(এম) কর্মীরা।

  • আহতদের তালিকা: দুষ্কৃতীদের হামলায় সরাসরি আক্রান্ত ও জখম হয়েছেন দেবরাজ বর্মন, সোহিনী রায়, প্রভাকর সরকার, দিয়া সাহা, পূর্ণা দত্ত ভৌমিক এবং পঞ্চম ঘোষ।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ও তীব্র ক্ষোভ

দীর্ঘক্ষণ তাণ্ডব চালানো সত্ত্বেও সময়মতো পুলিশ না পৌঁছানো এবং পরবর্তীতে পৌঁছানোর পরও তাদের “নীরব দর্শক” হয়ে থাকার চরম অভিযোগ উঠেছে:

বিষয় বিবরণ ও দলীয় অভিযোগ
পুলিশের নীরবতা দীর্ঘ তাণ্ডব চলার পর পুলিশ পৌঁছালেও তাণ্ডবকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। উল্টে পুলিশের উপস্থিতিতেই পুনরায় জমায়েত হয়ে আক্রমণের চেষ্টা চালায় বিজেপির সশস্ত্র বাহিনী।
পার্টি অফিস ছাড়তে নারাজ বাম নেতৃত্ব কোতোয়ালি থানার আইসির নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী এসে সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্র ও রাজ্য কমিটির সদস্য সলিল আচার্য সহ নেতা-কর্মীদের বাড়ি চলে যেতে বললে তাঁরা সাফ জানিয়ে দেন—পুলিশের ওপর তাঁদের ভরসা নেই, পার্টি দপ্তর তাঁরা নিজেরাই পাহারা দেবেন।

আরও পড়ুনঃ  “মানুষ বোকা নয়”; আইনি সুবিধা বনাম রাজনৈতিক কৌশল; অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে ‘বিশেষ ছাড়’ বিতর্ক ও জনমানসের প্রশ্ন

‘হামলা চালিয়ে সিপিআইএম-কে রোখা যাবে না’: বাম নেতৃত্ব

ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্র জানান, “বিজেপি ক্ষমতায় এসে ধরাকে সরা মনে করছে এবং অঞ্চলের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংস করতে চাইছে। সাধারণ মানুষ বিজেপির জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে ব্যাপক হারে সিপিআই(এম)-এর প্রতি আস্থা বাড়াচ্ছেন বলেই এই মরিয়া আক্রমণ। তবে পতাকা পুড়িয়ে বা অফিসে হামলা চালিয়ে সিপিআই(এম)-কে রোখা যায়নি আর যাবেও না। সাধারণ মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবেন।”

মঙ্গলবার বিকেল ৪টেয় জেলা দপ্তরের সামনে থেকে এই হামলার প্রতিবাদে সুবিশাল মিছিল বের করবে সিপিআই(এম)। জেলাজুড়ে এই ঘটনায় রাজনৈতিক পারদ চড় চড় করে বাড়ছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন