কলকাতার পদ্মপুকুর থেকে কালীঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার রাস্তায় হেলমেট ছাড়া স্কুটিতে চড়ে যাওয়ায় তৃণমূলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই যাত্রায় স্কুটি চালাচ্ছিলেন তৃণমূলের আইটি সেলের দায়িত্বে থাকা উপাসনা চৌধুরী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলমেটবিহীন এই যাত্রার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই বিষয়টি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
পুলিশের সম্ভাব্য আইনানুগ ব্যবস্থা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্কুটির মালিক মুশতাক আহমেদের বিরুদ্ধে মোটর ভেহিকেল আইনের ১২৮ ধারায় জরিমানার নোটিশ দেওয়া হতে পারে। কারণ তিনি সহযাত্রীকে হেলমেট ছাড়া নিয়ে গেছেন। এ জরিমানার পরিমাণ ১০০০ টাকা হতে পারে। স্কুটির নম্বর WB 01B E4336। স্কুটিটির কোনও পেন্ডিং কেস নেই। প্রশ্ন উঠছে, বিনা হেলমেটে আরোহীকে নিয়ে যাওয়ায় কী পদক্ষেপ করতে পারে পুলিশ? অপরদিকে, অনুমোদন ছাড়া স্কুটি চালানোর জন্য উপাসনা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৫০০০ টাকা জরিমানা হতে পারে। এছাড়া লাইসেন্স না থাকলে গ্রেফতারের সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ শয্যাশায়ী ছোট্ট অর্কজিত, দরকার ৯ কোটির ইঞ্জেকশন! চিকিৎসায় পথে নামছে শহর
বিজেপির তীব্র সমালোচনা
বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি মমতার এ কাজকে আইন অমান্য হিসেবে দেখেন। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইন লঙ্ঘন করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা হওয়া উচিত। তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রী হলেও সাধারণ সুরক্ষা বিধি অনুসরণ করেননি। পুলিশের উচিত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।”

উপাসনা চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া
অভিযোগের জবাবে উপাসনা চৌধুরী বলেন, “পুলিশ দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, সেক্ষেত্রে আগে সেটাই বিচার করা উচিত। আমি দেখেছি ইকোপার্ক এলাকায় হেলমেট না পরে বাইক চালানো হয়েছে, সেখানে যদি মামলা হয়ে থাকে, তারপর আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলব। পুলিশের অনেক বক্তব্য আমাদের হাস্যকর ও দুঃখজনক মনে হয়।”
আরও পড়ুনঃ খুব সাবধান লাল চোখে সতর্ক, ‘জয় বাংলা’ এসেছে কলকাতায়!
সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘটনার ফলে তৃণমূলের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। হেলমেটবিহীন স্কুটার যাত্রাকে কেন্দ্র করে সামাজিক সচেতনতা ও সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধিতাও তীব্র হয়েছে।
উল্লেখ্য, সড়ক নিরাপত্তা আইন মেনেই হেলমেট পরিধান বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে জনসাধারণের নজরে থাকা রাজনৈতিক নেতারা এই নিয়ম মেনে চলা উচিত বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
এই ঘটনা পরিবহন নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন তুলে দিল, যেখানে আইন অমান্যের অভিযোগ ও রাজনৈতিক সমালোচনার সঙ্গেই সামাজিক সচেতনতা জাগ্রত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।


