বিশেষ কূটনৈতিক প্রতিনিধি, দিল্লি:
ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের আগে ভারতে এসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দিল্লিতে আয়োজিত এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভারতের ঐতিহ্যবাহী আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
তবে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পাশাপাশি দিল্লির মাটি থেকেই পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত নিয়ে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে সুর চড়ান ইরানের প্রেসিডেন্ট।
আরও পড়ুনঃ ঝাড়খণ্ডের ব্যবসায়ী খুনে চাঞ্চল্যকর মোড়! লোকেশনের তথ্য দিতেন কলকাতার ট্রাফিক সার্জেন্ট
বৈঠক ও কূটনীতির মূল দিকসমূহ
দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুই দেশের অবস্থানের মূল বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় ও ক্ষেত্র | আন্তর্জাতিক ও প্রশাসনিক বার্তা |
| দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা | সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে আলোচনা হয়। |
| পেজেশকিয়ানের অবস্থান | ইরানকে ভয় দেখিয়ে বা চাপ সৃষ্টি করে মাথা নোয়ানো যাবে না। সাধারণ মানুষ ও সরকারি পরিকাঠামোয় হামলার বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। |
| প্রধানমন্ত্রী মোদীর বার্তা | সংঘাতের সমাধান একমাত্র কূটনীতি ও আলোচনার টেবিলেই সম্ভব। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি স্থাপন ও বাণিজ্যিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান। |
| আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট | ব্রিকস সম্মেলনের মঞ্চে রাশিয়া, চীন ও ইরানের রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। |
আরও পড়ুনঃ জোড়াফুল তুমি কার? ফ্রিজ হতে পারে ‘তৃণমূল’ নাম আর ‘জোড়াফুল’ প্রতীকটাই! আজ সবার নজর দিল্লিতে
আমেরিকা-ইজরায়েলকে সরাসরি বার্তা ও মানবাধিকার প্রশ্ন
দিল্লিতে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা ও বুদ্ধিজীবীদের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক নীতি লঙ্ঘন করে সাধারণ মানুষ, স্কুল ও হাসপাতালকে নিশানা করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তেহরান কোনো ধরনের চাপের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকবে।
ভারতের কূটনৈতিক ভারসাম্য
ইরানের প্রেসিডেন্টের সংঘাতমূলক বার্তার বিপরীতে ভারত অত্যন্ত কৌশলী ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট করে দেন যে, ভারত যেকোনো ধরনের সামরিক সংঘাতের বিরোধী এবং আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনা ও বাণিজ্যিক পথ সুরক্ষিত রাখার পক্ষে।
আগামী ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের এই উপস্থিতি কেবল অর্থনৈতিক সহযোগিতাই নয়, বরং গোলমার্গের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


