বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, উত্তর ২৪ পরগনা:
গণেশ উৎসব বলতেই সাধারণ মানুষের চোখে ভেসে ওঠে মহারাষ্ট্রের জাঁকজমকপূর্ণ উদযাপনের চিত্র। তবে রাজ্য বাংলা হলেও গণপতি বাপ্পার আরাধনায় পিছিয়ে নেই তিলোত্তমা ও তার সংলগ্ন শিল্পাঞ্চল। উত্তর ২৪ পরগনার কাঁকিনাড়া ও জগদ্দল এলাকায় প্রায় দেড় শতাধিক বছর ধরে মহাসমারোহে পালিত হয়ে আসছে ঐতিহাসিক এই উৎসব।
জুটমিল প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্নে ভিনরাজ্য থেকে আসা শ্রমিকদের হাত ধরেই মূলত এই অঞ্চলে গণেশ পুজোর সূচনা হয়েছিল, যা আজ বাংলার লোকসংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকার; সপাটে জবাব পাকিস্তানকে
ঐতিহাসিক পটভূমি ও উদযাপনের রূপরেখা
শিল্পাঞ্চলে গণেশ পুজোর সূচনা ও তার বর্তমান প্রসারের প্রধান দিকগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় ও ক্ষেত্র | ইতিহাস ও বর্তমান চিত্র |
| সূচনাকাল | প্রায় দেড় শতাধিক বছর (১৫০ বছর) পূর্বে জুটমিল চালুর সময়কালে। |
| সূচনাস্থল | কাঁকিনাড়া বাজার (উত্তর ২৪ পরগনা)। |
| উদ্যোক্তা | জুটমিলের স্থানীয় বাঙালি ও ভিনরাজ্য থেকে আসা শ্রমিকদের যৌথ উদ্যোগ। |
| প্রধান আকর্ষণ | বিশালাকার প্রতিমা, আলোকসজ্জা, দুঃস্থ বস্ত্রদান ও নরনারায়ণ সেবা। |
আরও পড়ুনঃ আর সিপিএমের ‘দাদাগিরি’ মানবে না; বুঝিয়ে দিল ‘ক্ষিতি’-র আরএসপি, ‘খাদের কিনারায়’ বাম ঐক্য
শিল্পাঞ্চলে যৌথ সংস্কৃতির বিকাশ
জগদ্দল ও কাঁকিনাড়া অঞ্চলে জুটমিল চালুর পর কাজের সূত্রে দূর-দূরান্তের বহু মানুষ এসে বসতি স্থাপন শুরু করেন। বিঘ্নহর্তা হিসেবে খ্যাত শ্রীগণেশের আরাধনা দিয়ে তাঁরা কাজের সূচনা করতেন। সময়ের সাথে সাথে কাঁকিনাড়া বাজারের মূল পুজোর পাশাপাশি কাছারি রোড, স্টেশন রোডসহ গোটা এলাকা জুড়ে গণেশ উৎসবের পরিধি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রাচীন এই পুজো কেবল ধর্মীয় আয়োজনেই সীমাবদ্ধ নেই; বস্ত্রদান ও সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমে সব ধর্মের ও সব স্তরের মানুষের এক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয় কাঁকিনাড়ার এই দেড়শো বছরের গণেশ উৎসব।


