বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিনিধি, কলকাতা:
আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই হাইপ্রোফাইল বিধানসভা কেন্দ্র—নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মনোনয়ন পেশ এবং ১৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী ও হুমায়ুন কবীরের ইস্তফার ফলে শূন্য হওয়া এই দুই আসনে ভোটের পারদ চড়তেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিল রাজ্য বামফ্রন্ট ও নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটি (AICC)।
আরও পড়ুনঃ ৬০০ স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠাবে JIO! স্যাটেলাইট ইন্টারনেটে রিলায়েন্স জিও-র বড় পদক্ষেপ
উপনির্বাচনে দলভিত্তিক প্রার্থীদের তালিকা
দুই প্রধান বিরোধী শিবিরের প্রার্থী চয়ন ও দলীয় প্রতীকের হিসাব নিচে তুলে ধরা হলো:
বাম জোটের সমীকরণ ও অন্দরের কোন্দল
নন্দীগ্রাম আসনে অতীত ইতিহাসকে মান্যতা দিয়ে শরিক দল সিপিআই-এর হাতেই আসনটি ছেড়েছে সিপিআই(এম)। গত নির্বাচনে এই আসনটি জোটের শরিক আইএসএফ-কে (ISF) ছাড়া হয়েছিল, তবে এবার পুরনো সংগঠনকে চাঙ্গা করতে সেখানে শান্তিগোপাল গিরিকেই প্রার্থী করেছে বামফ্রন্ট।
অন্যদিকে, রেজিনগর আসনে বামফ্রন্টের আরেক শরিক আরএসপি (RSP) লড়তে চাইলেও তাদের দাবি উপেক্ষা করে সিপিআই(এম) একতরফাভাবে বিশিষ্ট আইনজীবী সৈয়দ-এর নাম ঘোষণা করায় চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে আরএসপি নেতৃত্বের অন্দরে। শরিকি টানাপোড়েনের জেরে আরএসপি পাল্টা প্রার্থী দেয় কি না, সেদিকে নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।
কংগ্রেসের নতুন মুখ ও তৃণমূলের রাজনৈতিক বার্তা
কংগ্রেস হাইকম্যান্ড গত নির্বাচনের প্রার্থীদের বদলে নন্দীগ্রামে মিলন প্রধান এবং রেজিনগরে মহম্মদ আব্দুল্লাহি কাফিকে সামনে এনে নতুন চমক দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
অপরদিকে, তৃণমূল নেতা মদন মিত্র এক রাজনৈতিক মন্তব্য করে জানিয়েছেন, বিজেপি-বিরোধী ভোট বিভাজন রুখতে বিরোধীদের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। বিশেষত, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে সে ক্ষেত্রে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী কোনো প্রার্থী না দেওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেছে।
সব মিলিয়ে আগামী ৬ অক্টোবরের এই দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচন রাজ্য রাজনীতির নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে।


