Saturday, 12 September, 2026
12 September
HomeদেশBRICS: 'ইয়ারো, দোস্তি...'; ব্রিকস মঞ্চে পহেলগাঁও হামলার নিন্দা রাশিয়া-চিন-ইরানের, মুখ পুড়ল পাকিস্তানের

BRICS: ‘ইয়ারো, দোস্তি…’; ব্রিকস মঞ্চে পহেলগাঁও হামলার নিন্দা রাশিয়া-চিন-ইরানের, মুখ পুড়ল পাকিস্তানের

বিশ্বমঞ্চে নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান সফলভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে নয়াদিল্লি।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

নতুন দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলন শেষে গৃহীত ‘দিল্লি ঘোষণাপত্রে’ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিন্ন ও কঠোর অবস্থান নিল সদস্য রাষ্ট্রগুলি। ভারত, রাশিয়া, চীন ও ইরান-সহ ব্রিকস ভুক্ত দেশগুলি একযোগে যে কোনো রূপের সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

একই সঙ্গে সীমান্ত পারের সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিদের অর্থায়ন এবং নিরাপদ আশ্রয়স্থল (Safe Havens) দেওয়ার বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আন্তর্জাতিক সনদের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে ফের একবার কূটনৈতিকভাবে কোণঠাসা হলো ইসলামাবাদ।

আরও পড়ুনঃ ৬০০ স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠাবে JIO! স্যাটেলাইট ইন্টারনেটে রিলায়েন্স জিও-র বড় পদক্ষেপ

ঘোষণাপত্রের মূল দিক ও কৌশলগত প্রস্তাবসমূহ

ব্রিকস সম্মেলনের যৌথ ইশতেহারে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দমনে যে প্রধান নীতিগুলি গৃহীত হয়েছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:

বিষয় ও ক্ষেত্র যৌথ ঘোষণাপত্রের মূল সিদ্ধান্ত
সন্ত্রাসবাদের নিন্দা পহলগাম (Pahalgam) হামলাসহ যেকোনো সীমান্ত পারের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের কঠোর ভাষায় সমবেত নিন্দা।
দ্বিমুখী নীতি প্রত্যাখ্যান আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে যেকোনো প্রকার ‘দ্বিমুখী নীতি’ (Double Standards) বা রাজনৈতিক সুবিধাবাদকে সম্পূর্ণ নাকচ।
আর্থিক ও পরিকাঠামো প্রতিরোধ জঙ্গিদের আন্তঃসীমান্ত যাতায়াত রুদ্ধ করা, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন (Terror Financing) বন্ধ করা এবং নিরাপদ আশ্রয় ধংসের জোরদার অঙ্গীকার।
কূটনৈতিক সাফল্য বিশ্বমঞ্চে নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান সফলভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে নয়াদিল্লি।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির নতুন সমীকরণ

বিশ্বের একাধিক শক্তিধর দেশের উপস্থিতিতে এই ঘোষণাপত্রে ‘দ্বিমুখী নীতি প্রত্যাখ্যান’ এবং ‘নিরাপদ আশ্রয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা’ নেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়া ভারতের জন্য এক বড় কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পাকিস্তানের নাম সরাসরি নথিতে অন্তর্ভুক্ত না হলেও, সীমান্ত পারের সন্ত্রাস ও আশ্রয়স্থল সম্পর্কিত বার্তাটি যে মূলত ইসলামাবাদকেই লক্ষ্য করে দেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে একমত আন্তর্জাতিক বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা।

ভারতের অভূতপূর্ব সাফল্য, মনে করছে কূটনৈতিক মহল

ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে লাগাতার আলোচনার মাধ্যমে সেই অসাধ্য সাধন করা হয়েছে। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে থাকা ইরান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে একমঞ্চে নিয়ে আসার কাজটা সবথেকে কঠিন ছিল। মাসকয়েক ধরেই আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত চলছে ইরানের। সেক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরব আছে ইরানের বিরোধী পক্ষে। এমনকী সরাসরি সংঘাতেও জড়িয়েছে তিন দেশ। তারপরও ভারত যে কাজটা করেছে, সেটা অভূতপূর্ব বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

আরও পড়ুনঃ  পেশায় দিনমজুর, সন্ধ্যা ৬টায় হঠাৎ বদলে গেল জীবন; অভাবের সংসারে স্বস্তির আলো

ভোর ৪ টে পর্যন্ত আলোচনা, তাতেই খুলল রাস্তা

সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (ইংরেজি মত অনুযায়ী) ভোর চারটে পর্যন্ত আলোচনা চালিয়ে সব দেশকে ব্রিকসের নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে রাজি করিয়েছে ভারত। আর সেক্ষেত্রে ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে একইদিকে নিয়ে আসতে গিয়ে সবথেকে বেশি কালঘাম ছুটেছে বলে সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিল ইরান এবং আমিরশাহি। কিন্তু হাল ছাড়েনি ভারতও।

বিশ্বে শান্তির দূত ভারত, বার্তা গেল ব্রিকসের মঞ্চ থেকে

আর তাতেই এসেছে সাফল্য। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রের ক্ষেত্রে একাধিক ইস্যু নিয়ে টানাপোড়েন ছিল। কিন্তু আলোচনার মাধ্যমে ভারত যাবতীয় সংঘাত দূর করেছে। শত্রুপক্ষের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করেছে ভারত। যা বিশ্বে মোদী সরকারের শান্তির দূত হিসেবে অবস্থান এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের কূটনৈতিক দক্ষতার প্রমাণ তুলে ধরল। কারণ ব্রিকসের নিয়ম অনুযায়ী, একটি সদস্য দেশ আটকে দিলেই ঘোষণাপত্র গৃহীত হবে না। কিন্তু সেটা হয়নি। সব দেশই স্বাক্ষর করেছে যৌথ বিবৃতিতে।

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন