বিশেষ আন্তর্জাতিক ও রাজধানী প্রতিনিধি, নতুন দিল্লি:
আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আমেজে যখন সাজ সাজ রব গোটা দিল্লিতে, ঠিক তখনই রাজধানীরই এক বস্তি এলাকায় নীল-সাদা বড় বড় পর্দা ও ব্যারিকেড বসানো ঘিরে শুরু হয়েছে নয়া রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। দক্ষিণ দিল্লির ভাসন্ত বিহারের কুলি ক্যাম্প বস্তির চারপাশে উঁচু আবরণ তুলে সেটিকে বাইরে থেকে প্রায় অদৃশ্য করে দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অতিথিদের যাতায়াতের মূল রাস্তার পাশে থাকা এই নিম্ন-আয়ের বসতিটিকে এর আগেও একইভাবে আবৃত করা হয়েছিল। এতে শহরের সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রাখা ও নিরাপত্তার অজুহাতে দারিদ্র্যকে চোখের আড়াল করার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন বাসিন্দারা ও বিরোধীরা।
আরও পড়ুনঃ আর সিপিএমের ‘দাদাগিরি’ মানবে না; বুঝিয়ে দিল ‘ক্ষিতি’-র আরএসপি, ‘খাদের কিনারায়’ বাম ঐক্য
ঘটনাক্রম ও কুলি ক্যাম্পের ভৌগোলিক গুরুত্ব
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন তথ্য ও পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় ও ক্ষেত্র | তথ্য ও বিবরণ |
| ঘটনাস্থল | কুলি ক্যাম্প বস্তি, ভাসন্ত বিহার, দক্ষিণ দিল্লি। |
| গুরুত্ব ও অবস্থান | বিমানবন্দর, ধৌলা কুয়ান ও দক্ষিণ দিল্লির মূল সংযোগকারী রাস্তার পাশে অবস্থিত। ২০১২ সালের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ২৮১টি পরিবারের বাস। |
| নিরাপত্তা বলয় | প্রায় ১৫ হাজার পুলিশকর্মী, ২০০ কোম্পানি আধা-সামরিক বাহিনী, ৫০০-র বেশি সিসিটিভি এবং ৩৫টির বেশি রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ জারি। |
| পূর্ববর্তী ইতিহাস | ২০২৩ সালের জি২০ (G20) সম্মেলনের সময়েও একইভাবে সবুজ পর্দা দিয়ে বস্তিটি ঘিরে ফেলা হয়েছিল। |
আরও পড়ুনঃ নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকার; সপাটে জবাব পাকিস্তানকে
বাসিন্দাদের দুর্ভোগ ও রাজনৈতিক বিতর্ক
বস্তির চারপাশে এই বড় বড় পর্দা ও ট্রাফিক বিধিনিষেধের কারণে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছেন স্থানীয় নিম্ন-আয়ের মানুষজন।
-
আর্থিক ক্ষতি ও দৈনন্দিন সমস্যা: সবজি বিক্রেতা, খুচরো দোকানদার ও হকারদের দৈনিক আয় কমে গেছে। যাতায়াতের পথ বন্ধ থাকায় কাজের জায়গায় যেতে সাধারণ মানুষের সময় ও যাতায়াত খরচ দুই-ই বাড়ছে।
-
বাসিন্দাদের দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া: একদল বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, আন্তর্জাতিক অতিথিদের সামনে তাঁদের দারিদ্র্যকে কেন ঢেকে রাখা হবে? তবে অন্য দল এটিকে মেগা ইভেন্টের নিরাপত্তা ও সৌন্দর্যায়নের স্বাভাবিক অংশ বলেই মনে করছেন।
-
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: কংগ্রেসের পবন খেরা এবং আম আদমি পার্টির (AAP) তরফে তোপ দেগে বলা হয়েছে, পর্দা বা ব্যারিকেড দিয়ে দেশের আসল সামাজিক বাস্তবতাকে আড়াল করা যায় না।
সরকারিভাবে এই পর্দা বসানোর মূল উদ্দেশ্য অতিথিদের থেকে বস্তি আড়াল করা—এমন দাবি নিশ্চিত করা না হলেও, আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাজধানী সাজানোর এই উদ্যোগ শহরের উজ্জ্বল আলো ও অদৃশ্য সামাজিক বৈষম্যকে ফের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।


