Wednesday, 16 September, 2026
16 September
HomeকলকাতাRanna Puja: ঐতিহ্য 'রান্নাপুজো'; উনানের বিশ্রাম ও নারীশ্রমের স্বীকৃতি

Ranna Puja: ঐতিহ্য ‘রান্নাপুজো’; উনানের বিশ্রাম ও নারীশ্রমের স্বীকৃতি

বাসি পান্তা ভাত হজমশক্তি বাড়ায়, পেট ঠান্ডা রাখে এবং শরীরের ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ প্রচ্ছদ রচনা:

ভাদ্র মাসের বিদায়লগ্নে গ্রামবাংলা মেতে ওঠে এক অনন্য লোকায়ত উৎসবে, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘রান্নাপুজো’ বা ‘অরন্ধন’ নামে পরিচিত। ভাদ্র সংক্রান্তি বা তার আগের দিন হরেক রকমের পদ রান্না করে রেখে পরদিন উনানে আগুন না জ্বালানোই এই উৎসবের মূল প্রথা। আপাতদৃষ্টিতে এটি উনুনের একদিনের ‘বিশ্রাম’ মনে হলেও, এর গভীরে লুকিয়ে রয়েছে আবহমান বাংলার গৃহিণীদের প্রতি সামাজিক সম্মান ও সচেতনতার এক গভীর বার্তা।

আরও পড়ুনঃ  মৃত্যুতেও আলাদা হলো না ‘বন্ধুত্বের’ হাত; ৪৮ ঘণ্টা পর মহানন্দা থেকে উদ্ধার শিলিগুড়ির দুই ছাত্রের দেহ

উনানের বিশ্রাম ও নারীশ্রমের স্বীকৃতি

যে সময়ে সমাজ আধুনিক সরঞ্জামের সুবিধা পায়নি, সেই সময়ে ঘরের মা-বোনেদের দিনের সিংহভাগ সময় কাটত ধোঁয়াচ্ছন্ন হেঁশেলে। ভোজনরসিক বাঙালি খাবারের স্বাদ উপভোগ করলেও, রান্নাঘরের এই অক্লান্ত পরিশ্রমকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার সুযোগ ছিল কম। রান্নাপুজো বা অরন্ধনের এই একটি দিন মূলত গৃহিণীদের রান্নার কাজ থেকে পূর্ণ বিশ্রাম দেওয়ার এক সামাজিক উদ্যোগ।

পৌরাণিক ভিত্তি ও মনসা পূজার যোগ

অরন্ধন উৎসবের পেছনে একাধিক লোককথা প্রচলিত রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় কাহিনিটি নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

বিষয় পৌরাণিক বিবরণ ও সামাজিক তাৎপর্য
অষ্টনাগ ও সদাগরের ছোট বউ পুকুর থেকে তুলে আনা নাগরূপী সাপেদের যত্ন নিয়ে দেবী মনসার কৃপাধন্য হয় সদাগরের ছোট বউ।
বাসি রান্নার বিধান দুর্ঘটনাবশত সাপেদের মুখ পুড়ে গেলেও পরবর্তীতে ভুল বুঝতে পেরে দেবী মনসা ভাদ্র সংক্রান্তিতে বাসি রান্নার (অরন্ধন) বিধান দেন।
প্রতীকী আরাধনা এই দিনে উনানে ফণিমনসার ডাল পুঁতে দেবী বিষহরির আরাধনা করা হয় এবং গোটা শ্রাবণ-ভাদ্র মাস জুড়ে চলা মনসা পূজার সমাপ্তি ঘটে।

আরও পড়ুনঃ তৃণমূল কার? ঋতব্রতপন্থীদের দখলে বহরমপুর তৃণমূল জেলা কার্যালয়

অরন্ধন ও পান্তা ভাতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

লোকায়ত এই প্রথার পেছনে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ঋতুপরিবর্তনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে:

  • হজমশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ: বাসি পান্তা ভাত হজমশক্তি বাড়ায়, পেট ঠান্ডা রাখে এবং শরীরের ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

  • ঋতুপরিবর্তনের খাদ্যরীতি: ভাদ্র ও আশ্বিনের এই সন্ধিক্ষণে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শরীরে রোগব্যাধির প্রকোপ বাড়ে। এ সময়ে পান্তার সঙ্গে বিভিন্ন শাক-সবজি শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

  • সাপের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ: বর্ষার শেষে সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকবিশ্বাস অনুযায়ী দেবী মনসাকে সন্তুষ্ট রাখার প্রথা গড়ে ওঠে।

ঐতিহ্যবাহী পদসমূহ

রান্নাপুজোর আগের দিন তৈরি করা পদের তালিকায় থাকে বিশেষ বিচিত্রতা: পান্তা ভাত, মুগের ডাল, কচু শাক, লতি চচ্চড়ি, পাঁচ রকমের ভাজা, আলু-কুমড়ো-নারকেল দিয়ে ছাঁচি, জোড়া ইলিশের পাতলা ঝোল, ভাপা ইলিশ এবং চালতার টক।

আজকের দিনে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় রান্নাঘরের কাজ সহজ হলেও, রান্নাপুজো কেবল একটি প্রথা নয়—এটি আমাদের সেই পুরনো মা-ঠাকুমাদের নীরব আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতি এক সশ্রদ্ধ প্রণাম।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন